‘আই লাভ ইউ’ বলতে বলতেই ছুরির কোপ! সোদপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীকে খুন, আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর
সকালবেলায় সোদপুরের স্কুল রোডে চাঞ্চল্যকর ঘটনা; ৩৩ বছরের গীতা দাসকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামী সুভাষ দাসের বিরুদ্ধে, পরে নিজের গলা ও পেটে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযুক্তের
নিজস্ব সংবাদদাতা : আই লাভ ইউ বলতে বলতে খুন ! সোদপুরে সাতসকালে রোমহর্ষক কাণ্ড। প্রকাশ্য রাস্তায় এক মহিলাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে আত্মহননের চেষ্টা এক ব্যক্তির। বুধবার সকালে সোদপুরের স্কুল রোড এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতংক ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সকালবেলা আচমকাই তারা দেখতে পান রাস্তায় উপর এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক মহিলাকে আঘাত করছেন। ঠিক তারপরেই সেই অস্ত্র দিয়েই অভিযুক্ত যুবক আত্মহননের চেষ্টা করেন। সাত সকালে প্রকাশ্য রাস্তায় এই ঘটনা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান পথ চলতি মানুষজন সহ ওই এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে আহত যুবতীকে উদ্ধার করে কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং অত্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় হাসপালাতে ভর্তি রয়েছেন অভিযুক্ত যুবক।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত যুবতীর হলেন বছর ৩৩’র গীতা দাস। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী , আজ সকালে সোদপুরের স্কুলরোডে, স্থানীয় বাসিন্দা সহ সেই মুহূর্তে ওই রাস্তায় উপস্থিত সকলের চোখের সামনেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন এক যুগল, মুহূর্তের মধ্যেই সেই বচসা নৃশংসতার রূপ নেয়, হঠাৎই ছুরি বের করে গীতাদেবীকে বারংবার কোপাতে থাকেন অভিযুক্ত যুবক। হকচকিয়ে যান আশেপাশের মানুষজন, তারা সাহায্যের জন্য কাছে আসলে তাদের ওপরেও ছুরি নিয়ে তেড়ে গিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই যুবক মৃত গীতাদেবীর স্বামী, বছর ৪৫ এর সুভাষ দাস। এই মর্মান্তিক ঘটনার কিছুমুহূর্ত পরেই রক্তাক্ত স্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে নিজের পেটে এবং গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন সুভাষবাবু, রক্তাক্ত অবস্থায় পরে দুজনেই মাটিতে পরে যান। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে সেকেন্ডের মধ্যেই। এই আকস্মিক ঘটনায় ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।
প্র্রথমে এই যুগলকে প্রেমিক – প্রেমিকা ভাবা হলেও, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত যুবকের বয়ানে স্পষ্ট তারা আসলে স্বামী-স্ত্রী ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী , মৃত যুবতীর বাড়ি সোদপুরের মহেন্দ্রনগর অঞ্চলে এবং অভিযুক্ত স্বামীর বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাটের হাড়োয়া অঞ্চলে। অভিযুক্তকে বাড়ি হাড়োয়াতে হলেও তিনি মূলত খড়দহ এলাকায় ৭৮/১ নম্বর রুটে বাস চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, থাকতেন খড়দহতেই। আর সেই সূত্র ধরেই সুভাষবাবুর আলাপ হয় গীতাদেবীর সাথে, ক্রমেই বন্ধুত্ব পরিণয়ে রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে গীতা ও সুভাষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে খুব সুখকর বৈবাহিক জীবন ছিলোনা তাদের, প্রতিনিয়তই অশান্তি লেগেই থাকতো। তবে সেই অশান্তি এমন নৃশংসতার রূপ নেবে তা ভাবতে পারেননি কেউই।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও।
প্রকাশ্য দিবালোকে এহেন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ,পানিহাটী পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত, সোদপুর স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কাজকর্ম হয়ে চলছে, সন্ধ্যে হলেই অন্ধকারে সেই দৌরাত্ব্য আরও বেড়ে যায়, হাজার অভিযোগের পরেও প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থায় নেওয়া হয়না।


