আন্তর্জাতিকখেলা

মেসির ম্যাজিক! ০-২ থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল।মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। আগামী ১২ জুলাই সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি মেসিবাহিনী।

স্পোর্টস ডেস্ক : অসম্ভব পরিস্থিতি থেকেও কীভাবে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব, তা আবারও বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিটে এক বিধ্বংসী ঝড়ের মতো আক্রমণ চালিয়ে এবং দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ইজিপ্টকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল মেসিরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত সাড়ে সাতটায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা , আর সেই ম্যাচেই মিশরের বিরুদ্ধে খাদের কিনারা থেকে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটালেন মেসি-বাহিনী। খেলা শেষ হওয়ার ১৯ মিনিট আগেও ফুটবল বিশ্বের মনে হয়েছিল যে, বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে, কারণ দলটি তখন ০-২ গোলের ব্যবধানে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল এবং হাতে সময়ও কম ছিল।
প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করার পর লিওনেল মেসিকে দেখে রীতিমতো হতভম্ব মনে হচ্ছিল।ফুটবলপ্রেমীদের বুক কেঁপেছিল অঘটনের ভয়ে, ভাবনায় এসেছিলো মেসির বিশ্বকাপ শেষ! সম্ভবত দেশের হয়ে খেলাও শেষ! আর ঠিক তখনই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এবং জয়।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ও উত্তেজনাময় ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয় অর্ধেও তারা আরও একটি গোল করার চেষ্টা করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-র পর্যালোচনার পর সেই গোলটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই আবারও গোল করে ২-০ ব্যবধানে মিশরকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায় তারা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন এই বিশ্বকাপ জয়ী তারকা। এরপর বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গোল জালে জড়াতে পারল না আর্জেন্টিনা। দেখে মনে হচ্ছিল, আজ দিনটা আর্জেন্টিনার জন্য নয়। কিন্তু তখন কে জানত যে, ম্যাচের একেবারে শেষ ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে তারা এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেবে।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে একটি অনবদ্য হেডারে মাঠ কাঁপানো গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, যা সরাসরি টপ রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। এরপর তাদের আক্রমণভাগের ঝড়ের গতিবেগ আরও তীব্র হতে থাকে। ঠিক ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের একটি শক্তিশালী শট মিশরের গোলকিপারকে পরাস্ত করে সরাসরি জালে ঢুকে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই গ্যালারি জুড়ে উল্লাস ও সেলিব্রেশন শুরু হয়। লড়াই করে কামব্যাক করার এই ধারা অব্যাহত থাকে। অবশেষে ম্যাচের ৯৩ মিনিটে একটি বিধ্বংসী হেডে দলের জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ, যার ফলে খেলার চূড়ান্ত ফলাফল দাঁড়ায় ৩-২। খেলার শেষদিকে এসে হারতে থাকা ইজিপ্ট দলের বেপরোয়া আচরণ এবং বিশৃঙ্খলার কারণে লাল কার্ড দেখেন তারা।

আটলান্টার সেই লড়াই শেষে রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, তখনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন লিওনেল মেসি। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদলেন, কাঁদালেন বিশ্বজুড়ে তার প্রতি ভরসা রাখা অগুনতি ভক্তদের।  তিনি আবারও প্রমাণ করলেন , কেন তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে তিনি একাই যেন আর্জেন্টিনার দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে, লিওনেল মেসি উপস্থিত না থাকলে আর্জেন্টিনা কোনোভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি জিততে পারত না; তা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে যখন দলটি ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল, তখন জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্য।ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর তাঁর সতীর্থ খেলোয়াড়েরা যেভাবে তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে উল্লাস করতে শুরু করল, তা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে, মেসি যদি মাঠে না থাকতেন তবে দলের অবস্থা কী হতো। যদিও আর্জেন্টিনা জয়ী হয়েছে, তবুও হেরে গিয়েও মিশর মন জয় করে নিয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপ জার্নিতে আগামী ১২ই  জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের খেলায় আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *