আন্তর্জাতিকখেলা

রোনাল্ডোর পেনাল্টি, রামোসের শেষ মুহূর্তের গোল – নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন পর্তুগালের। রোনাল্ডোর পেনাল্টিতে সমতা, যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের জয়সূচক হেডে ২-১ ব্যবধানে বিদায় ক্রোয়েশিয়ার। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল।

স্পোর্টস ডেস্ক : পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এক নতুন সাফল্যের ইতিহাস রচনা করল পর্তুগাল দল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে পরাজিত করে এক নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে পর্তুগাল এখন শেষ ষোলোয় । এবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাওয়ার লড়াইয়ে পর্তুগালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় পর্তুগাল। খেলার মাত্র পঞ্চম মিনিটেই রাফায়েল লেয়াওয়ের একটি চমৎকার পাস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয় ব্রুনো ফার্নান্দেশের জন্য, কিন্তু বিপক্ষ দলের গোলরক্ষক এক দুর্দান্ত সেভ করে সেই সম্ভাবনা রুখে দেন। এরপর নবম মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত একটি ক্রস থেকে গোল করার চেষ্টা করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধ জুড়ে উভয় দলই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারলেও কোনো পক্ষই সফল হতে পারেনি, ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই মাঠ ছাড়তে হয় উভয় দলকে।
প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার চিত্র বদলে যায় এবং ইভান পেরিসিচের একটি গোলের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ডানদিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিসিচের একটি ভাসানো সেন্টার বা ক্রস থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেরিসিচ গোলটি করেন, যা ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেয়। এর ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকটাই লুকা মদ্রিচ ও তার ক্রোয়েশিয়ান দলটির হাতে চলে গিয়েছিল। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর জন্য পর্তুগাল দল মরিয়া হয়ে আক্রমণ করতে শুরু করে এবং এর ফলে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ বা ডিফেন্সের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। অবশেষে ৬৮ মিনিটে বক্সের ভেতরে ভেইগাকে ফাউল করেন নিকোলা ভ্লাসিচ, যার ফলে পর্তুগাল পেনাল্টি পায় এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো অত্যন্ত নিখুঁত শটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফিরিয়ে আনেন। সমতা ফেরানোর পর ক্রোয়েশিয়াও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে; ৭৬ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের একটি জোরালো শট পোস্টের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এমনকি ৮১ মিনিটে পেতার সুচিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোনাল্ডোকে মাঠ থেকে সরিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। উল্লেখ্য যে, পুরো ম্যাচে পর্তুগাল কোচ বেশ কৌশলগত পরিবর্তন আনেন এবং চার-চারটি খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত বা যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে জয়সূচক গোলটি করেন গনসালো রামোস। এরপর দশ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের দিকে ক্রোয়েশিয়াও একটি গোল করতে সক্ষম হয়, কিন্তু ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমেই বলকান দেশটির বিদায় নিশ্চিত হয় এবং পর্তুগাল ২-১ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *