পালাবদলের বঙ্গে ‘বদল’ দীঘার রথযাত্রায়, এবার রথের রশি টানতে পারবেন সাধারণ ভক্তরাও
প্রত্যাশিতভাবেই গতবছর মহাধুমধাম করে নবনির্মিত দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হয় প্রথম রথযাত্রা। তবে সেবার রথের রশি টানার সুযোগ পাননি সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র রশি স্পর্শ করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। রথের রশি টানার সময় পদপিষ্টের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সেই লক্ষ্যেই রশি টানা থেকে বিরত রাখা হয় সাধারণ ভক্তদের - এমনটাই যুক্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের। আর সরকারের এ হেন সিদ্ধান্তের পর 'ভিআইপি সংস্কৃতি' নিয়ে তীব্র সমালোচনাও হয়েছিল।
৭এ নিউজ ডেস্ক: পালাবদলের বঙ্গে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) রথযাত্রা উৎসব নিয়ে দেদার কৌতূহল রয়েছে জনমানসে। আর তার মাঝেই ভক্তদের জন্য এলো সুখবর। চলতি বছরে রথযাত্রায় সাধারণ ভক্তরাও টানতে পারবেন রথের রশি। আর প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই জগন্নাথ ভক্তদের মাঝে বইছে খুশির হাওয়া। প্রসঙ্গত, গত বছর অক্ষয়তৃতীয়ার দিন দীঘায় সুবিশাল জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রত্যাশিতভাবেই গতবছর মহাধুমধাম করে নবনির্মিত দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হয় প্রথম রথযাত্রা। তবে সেবার রথের রশি টানার সুযোগ পাননি সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র রশি স্পর্শ করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। রথের রশি টানার সময় পদপিষ্টের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সেই লক্ষ্যেই রশি টানা থেকে বিরত রাখা হয় সাধারণ ভক্তদের – এমনটাই যুক্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন সরকারের। আর সরকারের এ হেন সিদ্ধান্তের পর ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও হয়েছিল।
এরপর কালের নিয়মে গঙ্গা দিয়ে বয়েছে অনেক জল। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের (BJP Government) শাসনাধীন। আর সরকারি নির্দেশ মোতাবেক,দীঘার জগন্নাথ মন্দিরকে আর ‘ধাম’ বলে আখ্যায়িত করা হয় না। বরং সেটি এখন “শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।” সেই কেন্দ্রে এবছরের রথযাত্রা কিভাবে পালিত হবে তা নিয়ে রাজ্যবাসীর কৌতূহলের শেষ নেই। উল্লেখ্য, গত ২৯ শে জুন প্রথা মেনে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে জগন্নাথ দেবের ‘স্নানযাত্রা’ উৎসব। এখন চলছে মহাপ্রভু ও তাঁর ভাই-বোনের ‘অনবসর’ কাল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবস্নানের দিন ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করে এখন প্রবল জ্বরে আক্রান্ত জগন্নাথ,বলরাম এবং সুভদ্রা। আবারো নবযৌবন উৎসবের মাধ্যমে ভক্তদের দর্শন দেবেন তিন ভাই- বোন। আর তারপরেই রথযাত্রা। দেশজুড়ে জগন্নাথ মন্দির সহ অন্যান্য মন্দিরেও বিশেষ পুজো-পাঠের আয়োজন করা হয়। রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ ও তাঁর ভাই-বোনেরা। সেদিন পুরীর জগন্নাথ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় নামে অগণিত ভক্তদের ঢল। সেই সঙ্গে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে গত বছর দীঘার মন্দিরে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। আর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার দীঘার রথযাত্রায় রথের রশি টানার সুযোগ পাবেন সাধারণ ভক্তরাও।
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে চলছে রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি।পুরীর মতো দীঘাতে প্রতি বছর নতুন রথ বানানো হয় না। তবে সেখানে জগন্নাথ,বলভদ্র এবং সুভদ্রা দেবীর রথে নতুন রং করা হয়েছে। মূল মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা হয়েছে রথ তিনটিকে। চলছে রথের চাকা সহ সমগ্র কাঠামোর বিভিন্ন অংশ পরীক্ষানিরীক্ষার কাজ। সেই সঙ্গে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার দিকটিতেও বিশেষভাবে নজর রাখছে প্রশাসন।



