আন্তর্জাতিক

জল সংকটে মরিয়া পাকিস্তান! সিন্ধু চুক্তি নিয়ে মোদীকে প্রকাশ্য হুমকি, ভাইরাল পাক মন্ত্রীর মন্তব্য

পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের স্থগিত করা সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের দাবি ইসলামাবাদের। জল আটকে দিলে ‘হাত কেটে দেওয়া হবে’—পাক মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন উত্তেজনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে কৌশলগতভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল ভারত সরকার। পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ স্বরূপ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ভারত এই জলবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান তখন থেকেই চরম মাত্রার জলসঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে এই দীর্ঘস্থায়ী জলসংকট মোকাবিলা করতে এবং স্থগিত হওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিটি পুনরায় কার্যকর করতে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ প্রশাসন অত্যন্ত মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই জটিল ও সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে নিজেদের জলের ‘অধিকার’ নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদ এখন রীতিমতো হুমকি ও হুঁশিয়ারি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। তাদের দাবি যে, যদি এই চুক্তিটি ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খাতায়কলমে থাকা অন্য কোনো সমঝোতা বা চুক্তিও আর নিরাপদ থাকবে না।
সম্প্রতি ইসলামাবাদে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত একটি বিশেষ আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী।উক্ত সভায় পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি ‘বৈধ এবং কার্যকর’ রয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই চুক্তি অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলা উভয় পক্ষের জন্য ‘বাধ্যতামূলক’।
একই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকা পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি ভারতকে হুমকি  এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি কটাক্ষ করে মুসাদিক মন্তব্য করেন, ‘প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন ভাব করছেন যেন জলের কলটি তাঁর নিজের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেছেন যে, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জল যেতে দেবেন না।’ এর পরপরই তিনি অত্যন্ত উগ্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি আমাদের প্রাপ্য জল প্রবাহ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই হাত কে*টে দেওয়া হবে।’ মুসাদিকের এই বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিওটি বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে (যদিও সত্যতা যাচাই করেনি ৭এ নিউজ ডট কম)।
তবে পহেলগাঁও হামলার পরবর্তী সময়ে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার তার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রক্ত এবং জল কখনও একই সাথে প্রবাহিত হতে পারে না।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘সিন্ধুচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির শর্তানুসারে, সিন্ধু নদের উপনদীগুলোর মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ তারা মূলত কৃষিকাজে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু পহেলগামে জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় ২৬ জন নিরীহ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর নয়াদিল্লি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং চুক্তিটি ‘স্থগিত’ রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে।
চুক্তি স্থগিতের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে আসলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে পাকিস্তানে জলসঙ্কটের ভয়াবহতা ক্রমশ আরও তীব্রতর হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *