তারাতলা বিপর্যয়ের পর কড়া পদক্ষেপ, ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ সব নির্মাণকাজ; অডিটের পরেই মিলবে এনওসি
নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা যাচাইয়ে গঠিত হাই-পাওয়ার কমিটি। আগামী সপ্তাহ থেকে ১৪৪টি ওয়ার্ডে শুরু হবে বিশেষ অডিট অভিযান। নিয়ম ভাঙলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি সরকারের।

নিজস্ব সংবাদদাতা : তারাতলায় একটি নির্মাণাধীন গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনার ভয়াবহতার পর কলকাতা শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বাড়ি তৈরির সমস্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত নির্মাণকাজগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে ছাড় পেয়েছে। জানানো হয়েছে, এই নির্মাণ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তারাতলায় ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গঠিত হাই পাওয়ার কমিটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো কলকাতা পুরসভায়। এই বিশেষ বৈঠকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে এবং কমিটির চেয়ারম্যান তথা অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি রাজেশ পান্ডের পাশাপাশি কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি বোরো এলাকায় অন্তত একটি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনটি করে বিশেষ টিম গঠন করা হবে। এই যৌথ টিমগুলিতে কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কেএমডিএ (KMDA), পুলিশ, পূর্ত দপ্তর, দমকল বাহিনী এবং সিভিল ডিফেন্স দফতরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই যৌথ টিমগুলো ঠিক কী কী বিষয় এবং পদ্ধতি মেনে খতিয়ে দেখবে, তার জন্য একটি বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করার কাজ চলছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই এসওপি চূড়ান্ত করা হবে। সেই এসওপি অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকেই কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক ভবন এবং ব্যক্তিগত বা বড় বড় আবাসন প্রকল্প, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে, সেগুলোর অডিটের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হবে। অডিট শেষে যদি নির্মাণ কাজের রিপোর্ট সন্তোষজনক বলে প্রমাণিত হয়, তবেই বাড়ি তৈরির কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি হিসেবে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) প্রদান করা হবে।
পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনগুলির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ভবনের নকশা বা ডিজাইন সঠিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে কিনা, অনুমোদিত নকশা মেনেই কাজ চলছে কিনা এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে সঠিক গুণমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া আরও একাধিক বিষয়কে প্রাথমিক পর্যায়ে এসওপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষ থেকেই এই পরিদর্শন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, নতুন বিধিতে নিয়মাবলি এতটাই কঠোর করা হবে যাতে কোনোভাবেই বেআইনি নির্মাণ কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না হয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অবৈধ নির্মাণ, নিয়মের অবহেলা বা দুর্নীতির সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকেন, তবে তিনি যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



