পশ্চিমবঙ্গ

২কাউন্সিলর গ্রেপ্তারের পরেই পানিহাটিতে পদত্যাগ ১০কাউন্সিলরের

গ্রেপ্তারী এবং ডিম থেরাপী শুরু হতেই পানিহাটীতে পদত্যাগ ১০ কাউন্সিলরের, ছাড়তে পারেন পৌরপ্রধানও

নিজস্ব সংবাদদাতা : পানিহাটীর ২ কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হবার পরেই একযোগে পদত্যাগ ৮ জন পৌরপ্রতিনিধির। আর ১০দিন আগেই পদত্যাগ করেছিলেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পূর্ব পানিহাটী শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি, রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী এবং ৩নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা ঝর্ণা ব্যানার্জী। ৩৫আসন বিশিষ্ট পানিহাটী পৌরসভায় গত ২০২২এর পৌর নির্বাচনে ১টি করে আসন জিতেছিল কংগ্রেস ও সিপিআইএম,বাকি ৩৩টি আসন ছিল তৃণমূলের দখলে। বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটী সহ গোটা রাজ্যেই জনাদেশ যায় বিজেপির পক্ষে, এবং তারপর থেকেই পানিহাটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় পৌর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
জানা গিয়েছে, গত ১০দিন আগে পদত্যাগ করেছিলেন ২৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পূর্ব পানিহাটী শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি, রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী এবং ৩নম্বর ওয়ার্ডের পৌরমাতা ঝর্ণা ব্যানার্জী। এরপরেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার পুলিশ ১মে গ্রেপ্তার করে পরিতোষ দাস, সজল সাউ,পিন্টু ভৌমিক,চ্যাং, পালোর এবং ভোলা নামের ৬তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীকে, আর তারপরেই গ্রেপ্তার হন পৌরাঞ্চলের ৩২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শম্ভূনাথ চন্দ ও তারপর ১৩নম্বর ওয়ার্ডের জয়ন্ত দাস ওরফে গোবিন্দ। ১৪নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা তীর্থঙ্কর ঘোষের খোঁজেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এই আবহে দাঁড়িয়ে সোমবার পশ্চিম পানিহাটী তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও ৪নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা প্রবীর ভট্টাচার্য এবং তার সাথে পৌরাঞ্চলের ৯নম্বর ওয়ার্ডের তনুশ্রী ভৌমিক পাল, ১৫নম্বর ওয়ার্ডের অর্পিতা চক্রবর্তী, ১৬নম্বর ওয়ার্ডের তাপস দে ওরফে ভাই, ১৮নম্বর ওয়ার্ডের পূজা চক্রবর্তী ,২০নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন কুন্ডু, ২৪নম্বর ওয়ার্ডের দেবযানী রায় ও মিঠু মজুমদার ব্যারাকপুরে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে তাদের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে আসেন। ঘটনার পর পশ্চিম পানিহাটী তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও ৪নম্বর ওয়ার্ডের পৌরপিতা প্রবীর ভট্টাচার্য এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে জনাদেশ দিয়েছেন, তাকে সম্মান জানাতেই তারা পদত্যাগ করলেন। এ ঘটনার পর পানিহাটী পৌরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩জন, যাদের মধ্যে পৌরপ্রধান সোমনাথ দেও পত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে, তবে উপ পৌরপ্রধান সুভাষ চক্রবর্তী সহ ১১জন কাউন্সিলর এখুনি পদত্যাগে নারাজ বলে জানা গেছে। কার্যত অচল হয়ে পড়া পানিহাটী পৌর প্রশাসন আগামীতে কি অবস্থায় দাঁড়ায় এখন দেখার সেটাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *