আন্তর্জাতিকখেলা

৭ মিনিটে ধাক্কা, শেষ ১৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন! বিশ্বকাপে মরিয়া লড়াই থামলো কঙ্গোর

ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ৭৫ ও ৮৬ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নকআউটে জায়গা করে নিল থ্রি লায়ন্স। সাহসী লড়াই করেও বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ ডিআর কঙ্গোর।

স্পোর্টস ডেস্ক : খেলার মাত্র সাত মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ডিআর কঙ্গোকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পর্বে জায়গা করে নিলো ইংল্যান্ড। ৫২ বছর পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে খেলতে এসে কঙ্গো যে কেবল নাম লেখাতে আসেনি, বরং লড়াই করতে এসেছে তার প্রমাণ তারা বারংবার দিয়েছে। বিশ্বকাপের মূলপর্বের খেলায় তারা শক্তিশালী পর্তুগাল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দলকে রুখে দিয়েছিল। সেই জয় থেকেই বিশ্বকাপে শুরু হয়েছিল কঙ্গোর স্বপ্নের দৌড়। প্রথমবারের মতো আফ্রিকার এই দরিদ্র দেশটির হাতে উঠে এসেছিল বিশ্বকাপ নকআউটের টিকিট। এদিন রাতে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বুক চিতিয়ে মাঠে নেমেছিল।
১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি কোনো বাড়তি সমীহ বা ভয় দেখায়নি প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে অংশগ্রহণকারী কঙ্গো। বরং তারা অত্যন্ত আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ দর্পের সামনে ইবোলায় জেরবার ছোট্ট একটি দেশ হয়তো ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে—এমন একটি ধারণা নিয়ে কিছুটা আত্মঅহংকারী মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ডেকলান রাইস ও তার সতীর্থরা।
ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই ডিআর কঙ্গো এগিয়ে যায়। ডান দিক দিয়ে তারা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আক্রমণ গড়ে তোলে, রাইট ব্যাক ওপরে উঠে আসায় রক্ষণভাগে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল, তা দারুণভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। নিচু শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে গোল করে ব্রায়ান সিপেঙ্গা। সাত মিনিটের মাথায় গোল হজম করার পর ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা তাদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। একের পর এক ভুল পাস দেওয়া এবং বক্সের ভেতর নিজেদের অবস্থান বা খেই হারিয়ে ফেলা—সব মিলিয়ে তখন ইংল্যান্ডের ব্যর্থতাটাই প্রকট হয়ে উঠেছিল। কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল ম্পাসি একের পর এক শট বাঁচিয়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন। ইংল্যান্ডের প্রথম পজিটিভ আক্রমণটি আসে ম্যাচের ২৯ মিনিটে, যখন ডেকলাইন রাইস একটি ক্রস প্রদান করেন এবং ফাঁকা জায়গায় পেয়ে জুড বেলিংহাম হেড করেন। কিন্তু ম্পাসি বাঁ হাত দিয়ে সেই শটটি আটকে দেন। কঙ্গোর শক্তিশালী রক্ষণভাগের প্রাচীর ভাঙতে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস র‌্যাশফোর্ডদের মতো খেলোয়াড়রা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ইংল্যান্ড আরও কিছু গোল করার সুযোগ তৈরি করলেও কঙ্গোর গোলকিপার তা ঠেকিয়ে দেন। ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় ইংল্যান্ডকে।
৭৪ মিনিট পর্যন্ত কঙ্গো ইংল্যান্ডের আক্রমণকে সফলভাবে আটকে রেখেছিল। এক পর্যায়ে অনেক ফুটবলপ্রেমী ধরে নিয়েছিলেন যে, এবারের বিশ্বকাপে আবারও হয়তো বড় কোনো অঘটন ঘটতে চলেছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়ে কঙ্গো হয়তো আরও একটি রূপকথার গল্প লিখবে। তবে সব গল্পের শেষ সবসময় সুন্দর হয় না, তাই শেষ পর্যন্ত সেই রূপকথার হ্যাপি এনডিং হলোনা।
নিজেদের করা ভুলগুলো উপলব্ধি করে সেগুলো সংশোধন করে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ালো ইংল্যান্ড। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া একটি বলে হেড করে গোল করেন হ্যারি কেন। ম্পাসি সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সেই গোল আটকাতে পারেননি। এরপর ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক এবং তার ডান পায়ের জোরালো শটে কঙ্গোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে জয় এনে দেয়।
পরিশেষে ২-১ ব্যবধানে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড, লড়াই করেও এবারের মতো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কঙ্গোকে। তবে যেখানে ইতালি, জার্মানি, উরুগুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলো টানা তিনবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে, সেখানে কাবো ভার্দে, প্যারাগুয়ে ও ডিআর কঙ্গোর মতো দেশগুলো বিশ্বমঞ্চে বড় চমক দেখাচ্ছে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা দুর্বল মনে হলেও আফ্রিকার এই দেশগুলোর ঝকঝকে ফুটবল এবং হার না মানা মানসিকতার সামনে বিশ্বফুটবলের চিরচেনা শাসকেরা আজ ম্লান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *