কলকাতাভিডিও

ফের প্রতিবাদের প্রতিধ্বনিতে মুখরিত কলকাতা, ছড়ালো উত্তেজনাও, একযোগে আক্রান্ত ছাত্র-পুলিশ-সাংবাদিক

আন্দোলনকারীদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় পুলিশ কর্মীদের। পাল্টা উর্দিধারীদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহ ছোড়া হয় বোতল এবং জুতো। সেই সঙ্গে অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে যখন আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তখন পুলিশ লাঠিচার্জও শুরু করে। পাল্টা পুলিশের থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে তাদেরকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে।সেই সঙ্গে একাধিক সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

৭এ নিউজ ডেস্ক: আশঙ্কা ছিলই। আর সেই আশংকাকে সত্যি করেই উত্তেজনা ছড়ালো কলকাতার ছাত্র সমাবেশে ( Kolkata Protest)। রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরী হলো ধর্মতলা চত্বরে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আচমকাই পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করতে থাকে। অন্যদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা জুতো, বোতল ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরী হয় ধর্মতলা চত্বরে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এবং নিটে প্রশ্নফাঁস কান্ডের প্রতিবাদে গত ৬ ই জুন থেকে রাজধানীর যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। পরবর্তীতে বহু ছাত্র-ছাত্রীরা শামিল হয়েছে সেই বিক্ষোভে। ক্রমেই দিল্লির গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও আছড়ে পড়েছে ককরোচদের আন্দোলনের ঢেউ। এদিন যন্তরমন্তরের সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় রাজ্যের সমস্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। আর এর আগেও কলকাতায় মিছিল করতে চেয়ে পুলিশের কাছে একাধিক ইমেল পাঠানো হয়েছিল ককরোচ পার্টির তরফে। তবে মেলেনি অনুমতি। তাই গতকাল বাম ছাত্র সংগঠনের আহ্বানে এদিনের মিছিলে অংশ নেয় সেই পার্টির এ রাজ্যের সদস্যরাও। আর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শিয়ালদহ  থেকে শুরু হয় এদিনের যৌথ মিছিল। মিছিল যত এগিয়েছে ততই বহু তরুণ-তরুণী যোগ দেয় সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। শেষমেশ মিছিল যখন ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছয় তখন আচমকাই উত্তেজনা ছড়ায় ছাত্র সমাবেশে।

আন্দোলনকারীদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় পুলিশ কর্মীদের। পাল্টা উর্দিধারীদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহ ছোড়া হয় বোতল এবং জুতো। সেই সঙ্গে অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে যখন আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তখন পুলিশ লাঠিচার্জও শুরু করে। পাল্টা পুলিশের থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে তাদেরকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে।সেই সঙ্গে একাধিক সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হতে শুরু করলে নামানো হয়  যদিও পুলিশের দাবি, লাঠিচার্জ করা হয়নি।আন্দোলনকরীদের মধ্যেই ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে বিবাদ শুরু হলে তাদের থামাতে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া হয়েছে শুধু। আর পুলিশ-আন্দোলনকারী দ্বৈরথে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলার রাস্তাগুলো।পরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। কাজেই ‘নিট আন্দোলনের’ যে ঢেউ এদিন তিলোত্তমার রাস্তায় আছড়ে পড়ে সেখানেও ঘটলো গন্ডগোল। ফের কাঠগড়ায় পুলিশ। তবে অভয়া আন্দোলনের পর ফের একবার তিলোত্তমা মুখরিত হলো প্রতিবাদের প্রতিধ্বনিতে।

অন্যদিকে গতকালের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ টি মামলা রুজু করা হয়েছে।সেই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Subhendu Adhikari) জানান, সেই মামলাগুলির  সঙ্গে গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি গতকালের আন্দোলন যখন ধর্মতলা পৌঁছয় তখন বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে রীতিমতো তান্ডব চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি, চিহ্নিতকারীদের সঙ্গে নিট আন্দোলনের কোনো যোগাযোগ নেই। খুব শীঘ্রই তাদের গুন্ডা দমন আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, কিছু বহিরাগত ঢুকে তাদের আন্দোলনকে বিপথে চালানোর চেষ্টা করছিলো। আর তাদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডাও বাঁধে সেই সংগঠনগুলির ভলান্টিয়ারদের। কাজেই ছাত্রদের মিছিলে অশান্তির ঘটনায় বারংবার প্রকাশ্যে আসছে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব। আগামীতে সেই বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয় সরকার তার উত্তর দেবে সময়ই। তবে ‘প্রতিবাদের’ তিলোত্তমায় একযোগে আক্রান্ত ছাত্রসমাজ, পুলিশ এবং সাংবাদিকরাও! এটাই সবচেয়ে বড় সত্যি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *