কলকাতা

রাতের অন্ধকারে দমদম স্টেশনে হকার উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল একের পর এক দোকান

রাতে স্টেশনের বাইরে জনসমাগম ও ভিড় কমে আসতেই সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে যায়। এই অভিযানে আরপিএফ এবং রেল পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। অভিযান শুরুর শুরুতে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, যাঁরা বেআইনিভাবে স্টেশন চত্বর দখল করে রেখেছেন, তাঁরা যেন অবিলম্বে তাঁদের ডালা, ঠেলা বা গুমটি সরিয়ে নেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : হাওড়ার পর এবার দমদম স্টেশনেও চললো বুলডোজার। কদিন আগেই হাওড়া স্টেশনের বাইরে অবৈধ হকার উচ্ছেদে ব্যবহার করা হয়েছিল বুলডোজার, এবার ঠিক সেই একই দৃশ্য দেখা গেল দমদম জংশন স্টেশনে।গত শনিবার মধ্যরাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ভেতরে ও বাইরে থাকা হকারদের দোকানপাট ভেঙে ও সরিয়ে দেওয়া হলো। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রেলের জমিতে গড়ে ওঠা এই ‘অবৈধ’ দোকানগুলো সরাতে আগে থেকেই যথাযথ নোটিস বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরপরই শনিবার দমদম স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে বুলডোজার নামানো হয়। গভীর রাতে এই বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকান ও স্টলগুলো পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিপিএমের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীরা, উপস্থিত ছিলেন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ তোপদার। রেল ও রাজ্য সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘হকারদের জন্য কোনো পুনর্বাসন ব্যবস্থা না করে যদি তাদের এভাবে উচ্ছেদ করা হয়, তবে আমরা তা মেনে নেব না।’,বাম শ্রমিক সংগঠনের বহু চেষ্টা , অনুরোধের পরেও আটকানো যায়নি বুলডোজার, ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো দোকান ভেঙে ফেলা হয় মুহূর্তের মধ্যে।

প্রতক্ষদর্শীদের কথায় , রাতে স্টেশনের বাইরে জনসমাগম ও ভিড় কমে আসতেই সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে যায়। এই অভিযানে আরপিএফ এবং রেল পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো ছিল। অভিযান শুরুর শুরুতে মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, যাঁরা বেআইনিভাবে স্টেশন চত্বর দখল করে রেখেছেন, তাঁরা যেন অবিলম্বে তাঁদের ডালা, ঠেলা বা গুমটি সরিয়ে নেন। কিন্তু ,দোকানদারদের মধ্যে কেউই এগিয়ে এসে স্বেচ্ছায় তাঁদের ঠেলা বা ডালা সরিয়ে নেননি, বরং বারংবার অনুরোধ করতে শোনা যায় যতদিন না অন্য রুজিরুটির ব্যবস্থা তারা করছেন, তাদের আর কিছুদিন সময় দেওয়া হোক। কোনদিকেই কর্ণপাত না করে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এরপরই বুলডোজার নামানো হয় এবং ‘অবৈধ’ দোকান, গুমটি ও ডালা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই মধ্যে অন্ন-সংস্থানের শেষ অবলম্বন হারা হন কয়েকশো মানুষ।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল,গোটা স্টেশন এলাকাকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে এবং তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে প্রশ্ন, যাত্রী সুবিধাই যদি রেল কতৃপক্ষের একমাত্র মাথাব্যথা হয় তাহলে নির্ধারিত এবং সঠিক ভাড়া দেওয়ার পরেও প্রতিনিয়তই যে ‘ট্রেন লেট্’ ঘটনাটি ঘটে, তার ফলে কি সাধারণ যাত্রীদের কোনো অসুবিধায় হয়না ?, সাম্প্রতিক অতীতে, চলন্ত ট্রেনের মধ্যে মহিলারা আক্রান্ত হয়েছেন এমন বহু ঘটনা সামনে এসেছে, সেইক্ষেত্রে কেন এমন ‘দাবাং’ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়না রেলকতৃপক্ষকে ? পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে গত ৫ বছরে ২০০ টিরও বেশি ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনা ঘটেছে যার ফলস্বরূপ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং মারা গিয়েছেন। স্বাধীনতার এতোগুলো বছর পেরিয়ে এসে, এত্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সাথে থাকতেও কেন রেলযাত্রীদের কোনও সুরক্ষা নেই ? যাত্রী সুবিধার কথা উচ্চারিত হলে সাধারণ মানুষের কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *