৮০’র মধ্যে এলেন মাত্র ২০ জন, বাতিল করা হলো মমতার বাড়িতে ডাকা বৈঠক
এদিন বিকেল ৪টে থেকে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। সময় এগিয়ে আসতেই দেখা যায় ,কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোককুমার দেব এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা একে একে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ,তবে উপস্থিত সদস্যদের মোট সংখ্যা মাত্র ২০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা : শেষ পর্যন্ত বাতিলই হয়ে গেলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে ডাকা তৃণমূল বিধায়কদের দলীয় বৈঠক। বর্তমানে নতুন বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ জন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আজ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই দলের বিধায়কদের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত হয়েছিলেন। কানাঘুসো শোনা যাচ্ছে, মাত্র কয়েকজন বিধায়কের উপস্থিতির কারণেই বাতিল করা হয়েছে আজকের বৈঠক।
উপস্থিত বিধায়কদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, তাঁদের অধিকাংশ সদস্যই হলেন প্রবীণ বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিধায়কদের অনুপস্থিত থাকার প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। এই ঘটনা কি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বড় কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে?
এদিন বিকেল ৪টে থেকে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। সময় এগিয়ে আসতেই দেখা যায় ,কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোককুমার দেব এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা একে একে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ,তবে উপস্থিত সদস্যদের মোট সংখ্যা মাত্র ২০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা যেখানে মোট ৮০ জন, সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাত্র ২০ জন সদস্যের অংশগ্রহণম কেনো ? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে, বৈঠকটি কেন বাতিল হলো, কেন বেশিরভাগ বিধায়ক এলেননা সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন দলের মুখপাত্র, বিধায়ক কুনাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘‘ শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিধায়কেরা বর্তমানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন। এর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংকটময় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে, গতকাল সন্ধ্যা থেকেই অনেক বিধায়কের পক্ষ থেকে ফোন আসতে শুরু করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি বৈঠকের নির্ধারিত দিনটি পরিবর্তন বা বদল করা হয়, তবে সেটি সকলের জন্যই খুব ভালো ও সুবিধাজনক হবে।’’
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করা চেষ্টা করলেও ,একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, যদি বৈঠকের বিষয়ে আগেই বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে ২০ জন বিধায়ক কেন কালীঘাটে উপস্থিত হয়েছিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে আসলে কতজন বিধায়ক অংশগ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে দলের নেতৃত্বের কাছে কি কোনো আগাম ধারণা বা অনুমান ছিল? এমন সম্ভাবনাও প্রবল যে, বিধায়কদের উপস্থিতির সংখ্যা বা হাজিরা যাচাই করার পরেই হয়তো শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।



