দেশ

আরশোলাদের আন্দোলনে কাঁপুনি রাজধানীতে, দেশ বিরোধী তকমা CJP কে

অভিনব এই সমাবেশে SFI, আইসা সহ অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি যোগ দেবার ফলে দেশের রাজনীতিতে এই ককরোচ জনতা পার্টি সংক্ষেপে CJP এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুও হাজির ছিলেন সমাবেশে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি নব্য প্রজন্মকে নিয়ে কথা বলার সময় ‘আরশোলা’ (Cockroach) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতের একটি শুনানির সময় মন্তব্য করেন যে, কিছু বেকার যুবক-যুবতী আরশোলার মতো আচরণ করে। দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। নিন্দায় সরব হন নেটিজেনদের একাংশ। আর এরপরই প্রকাশ্যে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই রাজনৈতিক দলটি সম্প্রতি গঠিত হলেও মাত্র ৩-৪ দিনেই তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেদেরকে “যুবকদের দ্বারা, যুবকদের জন্য এবং যুবকদের রাজনৈতিক মঞ্চ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই এই আরশোলা পার্টির পেজে 4 মিলিয়নের বেশি বেশি মানুষ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
দেশের যুব সমাজের অধিকার আদায় এবং প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি, যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে অতি সাম্প্রতিক NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দ্বিতীয়টি হল সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের ওএসএম বা On-Screen Marking মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মারাত্মক অনিয়ম। আর এই সমস্ত বেনিয়মের প্রতিবাদ করতেই সমাজ মাধ্যমে তৈরী “ককরোচ জনতা পার্টি”, যার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বহু টালবাহানার পর এদিন অসংগঠিত এই সংগঠনটির ডাকে দিল্লীর যন্ত্রর মন্তরে যুব সম্প্রদায়ের একটি সভা থেকে দাবী তোলা হলো দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের। আর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অভিজিৎ দীপকে জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে এক অভিনব ও কড়া আলটিমেটাম দিয়েছেন যুবনেতৃত্বাধীন ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হবে। তবে সরকারের তরফ থেকে কোনও সাড়া না মেলায়, এবার দেশব্যাপী বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। অভিনব এই সমাবেশে SFI, আইসা সহ অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি যোগ দেবার ফলে দেশের রাজনীতিতে এই ককরোচ জনতা পার্টি সংক্ষেপে CJP এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুও হাজির ছিলেন সমাবেশে। সমাবেশের বহর দেখে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লী প্রশাসন, এই বিক্ষোভের পর ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সংগঠনটি নাকি দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। এবং, সিজেপি-র এই আন্দোলন পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে টাকা আসছে বা ‘ফরেন ফান্ডিং’ হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এখন দেখার ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী দল হিসেবে পরিচিত CJP আগামীতে দেশজুড়ে আদৌ কোনও বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে কি না বা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *