কোন কোন স্টেডিয়ামে হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ১০৪ টি ম্যাচ – জেনে নিন (পর্ব -১)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলে শিরোপা জয় করার গৌরবময় নজির রয়েছে কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে এবং ফুটবল সম্রাট মারাদোনা—উভয় কিংবদন্তিরই,সেই ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত মাঠগুলোতেও এবার প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে নামবে বিশ্বের একাধিক ফুটবল দল।

নিজস্ব সংবাদদাতা : হাতে মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরেই শুরু হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপ, আর এই বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং সবমিলিয়ে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩৯ দিন ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিযোগিতাটির আয়োজনের দায়িত্ব যৌথভাবে গ্রহণ করেছে আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো, এই তিনটি দেশ। এই সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টটি মোট ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সব মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকার ১১টি পৃথক শহরের ১১টি স্টেডিয়ামে ,কানাডার দু’টি এবং মেক্সিকোর তিনটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলে শিরোপা জয় করার গৌরবময় নজির রয়েছে কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে এবং ফুটবল সম্রাট মারাদোনা—উভয় কিংবদন্তিরই,সেই ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত মাঠগুলোতেও এবার প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে নামবে বিশ্বের একাধিক ফুটবল দল।
এক নজরে দেখে নিন কোন কোন মাঠে খেলতে নামবে আপনার প্রিয় ফুটবলারের –
এস্তাদিয়ো আজতেকা স্টেডিয়াম : বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মেক্সিকোর এস্তাদিয়ো আজতেকা স্টেডিয়ামে। মেক্সিকো সিটির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশাল স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ৮৭,৫০০ জন দর্শক উপস্থিত থেকে সরাসরি খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। দর্শক ধারণক্ষমতার নিরিখে এটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃত। ফুটবল ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মাঠটি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলোর সাক্ষী হয়ে আছে। কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনা—উভয় মহাতারকা এই ঐতিহাসিক মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে শিরোপা জয় করার গৌরব অর্জন করেছেন। এছাড়াও এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটি মেক্সিকোর জাতীয় ফুটবল দলের নিজস্ব হোম গ্রাউন্ড হিসেবে সুপরিচিত। আসন্ন এই মেগা টুর্নামেন্টের বিশেষ উদযাপন উপলক্ষে স্টেডিয়ামটির ছাদে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে সাজানো হবে।
এছাড়াও মেক্সিকোর আরও দুটি স্টেডিয়ামে খেলা হবে –
এস্তাদিয়ো বিবিভিএ : ৫৩,৫০০ আসন সংখ্যা বিশিষ্ট মেক্সিকোর মনটারেতে অবস্থিত এস্তাদিয়ো বিবিভিএ স্টেডিয়ামে হতে চলেছে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবলের বেশ কয়েকটি ম্যাচ। অবস্থানগত কারণে এই স্টেডিয়ামটিকে ঘিরে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, দর্শকরা যখন মাঠে বসে ফুটবল খেলা উপভোগ করবেন, তখন একইসাথে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও প্রাণভরে উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ইস্পাতে মোড়া এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামটি পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি জল পরিশোধন করার বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন। এখানে বৃষ্টির জল সংগ্রহ করে তা শোধন করার পর স্থানীয় জলাশয়গুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ভারী ইস্পাত দিয়ে নির্মিত এই বিশাল স্টেডিয়ামটি বিশ্বজুড়ে ‘স্টিল জায়ান্ট’ নামে পরিচিত।
এস্তাদিয়ো আক্রন : পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের অন্তর্গত গুয়াদালাজারার নিকটবর্তী জাপোপান নামক স্থানে অবস্থিত। এই চমৎকার স্টেডিয়ামটি মূলত মেক্সিকোর জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব সিডি গুয়াদালাজারার নিজস্ব ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই স্থানীয় ভাষায় এই স্টেডিয়ামটিকে এস্তাদিয়ো গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামও বলা হয়ে থাকে। স্টেডিয়ামটির আসন সংখ্যা ৪৯,৮৫০
আমেরিকার ১১টি স্টেডিয়ামে বসবে বিশ্বকাপের আসর –
সোফাই স্টেডিয়াম : এবারের বিশ্বকাপের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়ামে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরের কেন্দ্রস্থলে ৭০,২৫০টি আসন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই অত্যাধুনিক সোফাই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশাল স্টেডিয়ামটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে সর্বমোট ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রার হিসেবে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। মূলত আসন্ন বিশ্বকাপের আয়োজন এবং এর প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই এই বিশাল স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এই স্টেডিয়ামটির বিশেষত্ব হলো এটি একটি ইনডোর ও আউটডোর হাইব্রিড ডিজাইনের কাঠামো, যার ছাদে রয়েছে প্রায় স্বচ্ছ আবরণ এবং এর পাশের দিকগুলো খোলা রাখা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার ফলে খেলার মাঠে সরাসরি বৃষ্টি পড়ার সম্ভাবনা থাকে না, তবে বাইরের নির্মল বাতাস সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বর্তমানে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষ আগ্রহ ও নজর এই অনন্য স্টেডিয়ামটির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কাছেই বিমানবন্দর থাকায় এবং বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে মাটির প্রায় ১০০ ফুট গভীরে এই স্টেডিয়ামটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।
এটি এন্ড টি স্টেডিয়াম : দর্শকসানের দিক থেকে বিবেচনা করলে, আসন্ন বিশ্বকাপ খেলার জন্য এটিই হবে সবচাইতে বিশাল ও বড় মাপের স্টেডিয়াম। মার্কিন মুলুকে অবস্থিত ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামটি তার অত্যাধুনিক ও চমকে দেওয়া পরিকাঠামোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই স্টেডিয়ামে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। এর বিশেষত্ব হলো, প্রয়োজন পড়লে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই গোটা স্টেডিয়ামটি ঢেকে দেওয়া বা আবৃত করা সম্ভব। এখানে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
আগামী পর্ব আসছে –


