কলকাতা

“আমার সঙ্গে আলোচনা করে কখনই বাজেট তৈরী করা হয়নি”- দলীয় পদ ছেড়ে বিস্ফোরক চন্দ্রিমা

একসময় মমতার কার্যত ছায়াসঙ্গী ছিলেন যে চন্দ্রিমা তিনিও আজ পদত্যাগের পর করেন বিস্ফোরক মন্তব্য। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে অর্থ দপ্তর তাঁর দায়িত্বে থাকলেও বাজেট তৈরি সময় তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তিনি বাজেট পড়তেন ঠিকই। কিন্তু জনতা জানার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে নাকি তিনি জানতে পারতেন বাজেটের বিষয়বস্তু।

৭এ নিউজ ডেস্ক: “আমার সঙ্গে আলোচনা করে কখনই বাজেট তৈরী করা হয়নি”- আজকের বঙ্গ রাজনীতির পটচিত্রই বলে দিচ্ছে এই অভিযোগ অবশ্যই তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। আজ বেলার দিকে প্রথমে চিঠি দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, গত মাসের ৩ তারিখ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির যে পদ তাকে দেওয়া হয় সেই পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বর্তমানে যে যে পদে তিনি রয়েছেন সেই সব পদই ছেড়ে দিয়েছেন চন্দ্রিমা। তৃণমূল ও তার শাখা সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাংকে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই সব অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় নথিতে সই করার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। এদিন সেই দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন তিনি। আর পদত্যাগের পর বিধানসভায় পৌঁছন চন্দ্রিমা (Chandrima Bhattacharya)। বসেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ ঘরে। আর সেই ঘরে ছিলেন চন্দ্রিমা পুত্র সৌরভ বসুও।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই সৌরভ বসুই বেশ কিছুদিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আর আজ সেই বিদ্রোহী শিবিরের ঘরে চন্দ্রিমা পৌঁছতেই জল্পনার পারদ ক্রমশই চড়তে থাকে। তবে কি এবার মমতা সঙ্গ ছাড়বেন চন্দ্রিমাও? না, আপাতত সে পথে হাঁটেননি তিনি। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান- ” শিবিরের কোনো ব্যাপার নেই। আমি বিধানসভায় এসেছি কতগুলো নথিপত্র দিতে হবে। কি কি নথি দিতে হবে সেই সম্পর্কে জানতে হয় আমাকে তো একটা ঘরে বসতে হবে। সেক্ষেত্রে আমি নিশ্চয়ই সরকার পক্ষের ঘরে গিয়ে বসব না। বিরোধী পক্ষের ঘরে গিয়ে বসব। আমি তাই বসেছি।” ইস্তফার কারণ হিসেবে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি দমদম উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক। মূলত গতকাল কলকাতার মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন নিয়ে একপ্রস্থ টানাপোড়েন চলে। কালীঘাট শিবির নাকি ঋতব্রত শিবির কোন পক্ষের দখলে থাকে সেই ভবন তা এখনো স্পষ্ট নয়। গতকাল সেই কার্যালয়ে বিদ্রোহী শিবির তালা দিয়ে আসলেও আজ সেই তালা খুলে ভবনে ঢোকে মালিকপক্ষ। আগামীতে কোন শিবিরের অধিকার থাকে সেই কার্যালয়ে তা এখনো ধোঁয়াশাতেই। আর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দাবি, কার্যালয় দখলের সেই দ্বন্দ্বে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আনুগত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একসময় মমতার কার্যত ছায়াসঙ্গী ছিলেন যে চন্দ্রিমা তিনিও আজ পদত্যাগের পর করেন বিস্ফোরক মন্তব্য। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে অর্থ দপ্তর তাঁর দায়িত্বে থাকলেও বাজেট তৈরি সময় তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তিনি বাজেট পড়তেন ঠিকই। কিন্তু জনতা জানার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে নাকি তিনি জানতে পারতেন বাজেটের বিষয়বস্তু।

তবে দলীয় পদ ছেড়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেও শিবির বদলাননি চন্দ্রিমা। আগামীতে কি বদলাবেন ? বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আওড়ালেন রবি ঠাকুরের লেখা কবিতার পংক্তি- “কালের যাত্রার ধ্বনি  শুনিতে কি পাও / তারি রথ নিত্যই উধাও।” কাল অর্থাৎ সময় তাঁকে কোথায় নিয়ে যায় আগামীতে সেদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে বৈকি।

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *