আন্তর্জাতিকখেলা

প্যারাগুয়ের লড়াইয়ে নাস্তানাবুদ ফরাসি-বাহিনী ,এমবাপের পেনাল্টিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স, মরক্কোর মুখোমুখি দেশঁর দল

৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ম্যাচে VAR-এর সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। কঠিন লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে উঠল ফ্রান্স, এবার প্রতিপক্ষ মরক্কো।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বকাপের এ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই ফ্রান্সের খেলা ছিল অত্যন্ত অপ্রতিরোধ্য এবং শক্তিশালী। কিন্তু শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয়ে তাদের সেই অপরাজেয় ভাবমূর্তি বদলে গেল। এই বিশ্বকাপে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া ফ্রান্স ৭০ মিনিট পর্যন্ত কোনোভাবেই গোলের পথ খুলতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও , রক্ষণের একটি মারাত্মক ভুলের কারণে ম্যাচটি হাতছাড়া হয় । শক্তিশালী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিদিয়ের দেশঁর দল শেষ আটের লড়াই নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। ম্যাচের একমাত্র এবং নির্ণায়ক গোলটি করেন দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।
ফিলাডেলফিয়ার প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রার প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে রাউন্ড অফ সিক্সটিন এর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। খেলার শুরু থেকেই বলের দখল মূলত দিদিয়ের দেশঁর দলের কাছেই ছিল। তবে প্যারাগুয়ের অত্যন্ত শক্ত রক্ষণভাগ এবং তাদের শারীরিক ফুটবলের তীব্র চাপের মুখে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বার্কোলাদের আক্রমণ বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। আগের ম্যাচে সুইডেনকে উড়িয়ে দেওয়া ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে এদিন প্যারাগুয়ের সুনিপুণ ট্যাকটিকাল ফুটবলের কাছে রীতিমতো খাবি খেতে দেখা যায়।
প‍্যারাগুয়ে কোচ গুস্তাভো আলফারোর কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিরক্ত করে দিচ্ছিলেন। প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা মাঝেমধ্যেই এমন কিছু চোরাগোপ্তা আঘাত করছিলেন, যা এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে সেগুলোর জন্য কার্ডও দেখানো সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু এই কৌশল প্রতিপক্ষকে মারাত্মকভাবে বিরক্ত করতে সক্ষম হয়। ফলে মাঠে প্রচুর পরিমাণে ধাক্কাধাক্কি এবং ফাউল দেখা যায়। এমবাপেও এই উত্তেজনার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। এমনকি বিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময়ও সেই গণ্ডগোল ও বিশৃঙ্খলা থামেনি।
প্রথমার্ধে বেশ কিছু গোল করার সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই গোল করতে সফল হয়নি এবং দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার চিত্র প্রায় একই রকম ছিল। ফ্রান্সের কাছে বল থাকলেও প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য অবস্থায় টাইব্রেকারে গড়াবে, ঠিক তখনই ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায়। রেফারি শুরুতে পেনাল্টি দিতে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ভার প্রযুক্তির (VAR) সাহায্য নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ৭০ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক এমবাপে। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স।
ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পরেও প্যারাগুয়ে লড়াইয়ে হাল ছাড়েনি। একটি অসম লড়াই হলেও তারা মাঠের দখল ও আত্মসম্মান রক্ষায় এক ইঞ্চি জমি ছাড়েনি। প্রথমার্ধের সেই উত্তেজনাকর পরিবেশ দ্বিতীয়ার্ধে আরও বৃদ্ধি পায়। মাঠের ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে কোনে ও ওলিসেরা হলুদ কার্ড দেখে ফেলেন, যার ফলে পরের ম্যাচে তারা কার্ডজনিত সমস্যায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে আগামী ৯ জুলাই বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। উল্লেখ্য যে, মরক্কো একই দিনে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের লড়াই নিশ্চিত করেছে। আশরফ হাকিমির নেতৃত্বাধীন সাইবারিদের সামনে লড়াই করা ফ্রান্সের জন্য আরও বেশি কঠিন হতে পারে। কারণ, প্যারাগুয়ে হয়তো ৯০ মিনিট রক্ষণাত্মক খেলেছে, কিন্তু মরক্কো সম্ভবত তা করবে না। অবশ্যই এই ম্যাচের দিকে মরক্কোর তীক্ষ্ণ নজর ছিল। এমবাপেদের ফ্রান্সকেও কীভাবে আটকানো সম্ভব, তার একটি কার্যকর নীল নকশা কিন্তু গুস্তাভো আলফোরো পরোক্ষভাবে মরক্কোকে দিয়ে দিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *