নজিরবিহীন কাণ্ড! ধস্তাধস্তির পর বিধানসভা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হলো কুণাল ঘোষকে
বক্তা তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে অধিবেশন চলাকালীন স্পিকারের সামনে বিক্ষোভ কুণাল ঘোষের। বারবার সতর্কবার্তার পরও আসনে না ফেরায় মার্শালদের হস্তক্ষেপ, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার পরিবেশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভার অন্দরে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। টেনেহিঁচড়ে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষ থেকে বার করে দেওয়া হলো কালীঘাটপন্থী তথা বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষকে।
আজ বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন ঋত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। আখরুজ্জামানের বক্তব্য শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই কুণাল ঘোষ নিজের আসন থেকে ওঠেন এবং সোজা আখরুজ্জামানের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন, “বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন? আমার নাম কেন বাদ দেওয়া হলো?” কুণালের এই আচরণের পরেও আখরুজ্জামান তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে আখরুজ্জামানের বাঁ দিকে বসে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খান, আর তাঁর ডান দিকে বসে ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধায়কের মূল অভিযোগ ছিল যে, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের আলোচনায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্বরত আখরুজ্জামান সেই নামটি কেটে দিয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আসন ছেড়ে ওঠেন। সেই সময় আখরুজ্জামান কুণালের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের বক্তব্য পেশ করতে থাকেন। অন্যদিকে কুণাল ঘোষও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং বারবার একই প্রশ্ন করতে থাকেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুণালের কাছে ছুটে আসেন বিজেপি বিধায়কেরা। এছাড়াও সেখানে উপস্থিত হন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণাল ঘোষকে অনুরোধ করেন তাঁর নিজের আসনে ফিরে গিয়ে বসার জন্য, কিন্তু কুণাল তাতে কর্ণপাত করেননি এবং সরেননি।এর ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাউসের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। এরপর অধ্যক্ষ বারবার কুণাল ঘোষকে সতর্ক করে বলেন, “আমি কিন্তু স্পষ্ট করে বলছি, আপনি যদি না বসেন তবে আপনাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হবে।” তিনি একবার নয়, বরং একাধিকবার এই সতর্কবার্তা দেন । তবে কুণাল ঘোষ স্পিকারের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন এবং ক্রমাগত তাঁর প্রশ্ন করতে থাকেন।
অবশেষে স্পিকারের কড়া নির্দেশে বিধানসভার মার্শালেরা কুণাল ঘোষকে অধিবেশনকক্ষের বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য অগ্রসর হন। তাঁদের সঙ্গে কুণালের জোরদার ধস্তাধস্তি ও লড়াই শুরু হয়। এক পর্যায়ে এই ধস্তাধস্তি ও ধাক্কাধাক্কির ফলে কুণাল ঘোষ অধিবেশনকক্ষেই পড়ে যান। এরপর তাঁকে পাঁজাকোলা করে টেনে হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।



