কাঁটাতারহীন সীমান্তে বেড়া দেওয়ার পথে ‘কাঁটা’ বাংলাদেশ, মিটবে কি সমস্যা ?
এদিন জমি হাতে পেয়ে কুচলিবাড়ি সংলগ্ন সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফের তরফে মাপঝোপ শুরু হতেই তার বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই সঙ্গে বিএসএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান স্থানীয় বাংলাদেশিরা। অন্যদিকে পিছিয়ে ছিলেন না ভারতীয় ভূখণ্ডের স্থানীয় নাগরিকরাও। মূলত সমস্যার সূত্রপাত, জিরো পয়েন্ট থেকে ৫০ গজ দূরে কাঁটাতার বসানোর তোড়জোড় করাকে কেন্দ্র করে।
৭এ নিউজ ডেস্ক: কাঁটাতারহীন সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিজিবি ‘কাঁটায়’ উত্তেজনা ছড়ালো কোচবিহারের (Cooch Behar) সীমান্তবর্তী এলাকা কুচলিবাড়িতে। উল্লেখ্য, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকের এই কুচলিবাড়িতেই রয়েছে তিনবিঘা করিডোরের কিছু অংশ। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মসনদে পালাবদল হতেই কাঁটাতারহীন সীমান্ত নিয়ে তৎপর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিন জমি হাতে পেয়ে কুচলিবাড়ি সংলগ্ন সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফের তরফে মাপঝোপ শুরু হতেই তার বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই সঙ্গে বিএসএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান স্থানীয় বাংলাদেশিরা। অন্যদিকে পিছিয়ে ছিলেন না ভারতীয় ভূখণ্ডের স্থানীয় নাগরিকরাও। মূলত সমস্যার সূত্রপাত, জিরো পয়েন্ট থেকে ৫০ গজ দূরে কাঁটাতার বসানোর তোড়জোড় করাকে কেন্দ্র করে। একদিকে বিজিবির যুক্তি, ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজের বাইরে কোনো দেশ কাঁটাতার বসাতেই পারে। তবে ১৫০ গজের ভেতরে সেই বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হলে তা দুই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর সমঝোতা সাপেক্ষ। অন্যদিকে, ২০১০ সালের তিনবিঘা চুক্তি অনুযায়ী, ছিটমহলের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে ২৪ ঘন্টার জন্য খোলা হয় করিডোর এবং পরিবর্তে ভারত তিন বিঘা করিডোর সংলগ্ন সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অধিকার পায়। তবে বিজিবির বিরুদ্ধে এই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ উঠছে।
আর কাঁটাতার বসানোর জায়গা নিয়ে গন্ডগোল শুরু হতেই এলাকায় পৌঁছন মেখলিগঞ্জর বিজেপি (BJP) বিধায়ক দধিরাম রায়।কাঁটাতারের জমি নিয়ে ফের সমস্যা তৈরী হওয়ায় এদিন বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ও বিএসএফ এবং বিধায়ক ও স্থানীয়দের সঙ্গে দুটি ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। বিধায়কের স্পষ্ট বক্তব্য- ভারত সরকারের নিয়ম অনুযায়ীই কাঁটাতার বসানোর কাজ হবে।সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশ যদি ২০১০ সালের চুক্তি না মানে তবে তারাও তিনবিঘা চুক্তি ভাঙবে। যদিও বিধায়কের দাবি,আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটে গিয়েছে। আগামীতে কাঁটাতার কোথায় বসে সেটাই এখন দেখার।



