পশ্চিমবঙ্গ

বঙ্গে শেষ ১ম দফার ভোট, রাজনৈতিক সন্ত্রাস নয়, গরমের দাপটে মৃত ৫ 

পটাশপুর বিধানসভার ২৩৪ নম্বর বুথের বাইরেই ভোট দেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বছর ৫৮'র নীপেন্দ্রনাথ দাস। আর সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই আচমকাই জ্ঞান হারান তিনি। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে মালদার মালতীপুরে বুথের মধ্যেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন এক মহিলা। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে মৃত্যু হয় তাঁর।

নিজস্ব সংবাদদাতা: একদিকে ভোটের (Election 2026) উত্তাপ, অন্যদিকে প্রকৃতির চোখরাঙানি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বঙ্গে প্রথম দফায় ভোট দিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হয়েছে আরও এক প্রৌঢ়ার এবং ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক ব্যক্তির। সেই সঙ্গে ভোট দিয়ে এসে আরও এক প্রৌঢ়র মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এসেছে। আজ রাজ্যের ১৫২ টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ গোটা উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আজ ভোট ছিল। আর আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তরফে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া,বীরভূমের মতো একাধিক জায়গায় গরম নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। আর সেই গরমের দাবদাহের মাঝে ভোট দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। আর ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১ জন। এদিন পটাশপুর বিধানসভার ২৩৪ নম্বর বুথের বাইরেই ভোট দেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বছর ৫৮’র নীপেন্দ্রনাথ দাস। আর সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই আচমকাই জ্ঞান হারান তিনি। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে মালদার (Malda) মালতীপুরে বুথের মধ্যেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন এক মহিলা। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে মৃত্যু হয় তাঁর। বীরভূমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডেও ঘটেছে মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানে ভোট দিতে যাবার সময়ই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি।

মৃত্যুর তালিকায় জুড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক মহিলার নামও। সূত্রের খবর, এদিন কেশপুর ব্লকের ১২ নম্বর সরিষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে আসেন বছর ৫৬’র ইসরাতন বিবি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে বাড়ি যাবার পথে আচমকাই মৃত্যু হয় তাঁর। আর এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়েই মৃতার বাড়িতে যান কেশপুর বিধানসভার তৃণমূল (TMC) প্রার্থী শিউলি সাহা। তাঁর বক্তব্য এসআইআরে (SIR) ইসরাতন বিবির পরিবারের সকলের নাম বাদ যায়।তাঁর আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই মহিলা সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন। আর এদিন এসআইআর ইস্যুতে ফের জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষও করেছেন তিনি। অন্যদিকে এই কেশপুর বিধানসভাতেই এদিন আরও একটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।মৃতের নাম শেখ বাবলু। এদিন ভোট দিয়ে এসে খাওয়াদাওয়া সারেন তিনি। আর তারপরই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন ওই ভোটার। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কাজেই শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী,প্রথম দফার ভোটে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো গেলেও সামনে এসেছে গরমের দাপটে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর।

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *