ভারতে কি আদৌ দেখা যাবে বিশ্বকাপ ? সংশয়ে ফুটবলপ্রেমীরা
ফিফা সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছিল। শুধু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ নয়, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের স্বত্বকেও এর সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ভারতীয় সংস্থা এত বেশি অর্থ দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে ফিফা দাম কমিয়ে প্রথমে ৬৫ মিলিয়ন ও পরে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা) নামিয়ে আনে।
নিজস্ব সংবাদদাতা : ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার উত্তেজনা এখন বিশ্বজুড়ে। আর কিছু মাসের মধ্যেই পর্দা উঠবে ফিফা বিশ্বকাপের। তবে ভারতীয় ফুটবল অনুরাগীরা কি এই বছরের বিশ্বকাপ খেলাগুলো টেলিভিশন অথবা মোবাইল ফোনে দেখতে পাবেন? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো পর্যন্ত ফিফা অথবা ভারতের কোনো সম্প্রচারকারী সংস্থা নিশ্চিত করেনি।
ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা নিয়ে জটিলতা কেন?
মূল সমস্যা হলো খেলার সময়সূচি। এবারের বিশ্বকাপ আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় বেশিরভাগ ম্যাচই ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত বারোটার পরে শুরু হবে। সাধারণত রাত ১২:৩০, ভোর ৩:৩০, ভোর ৫:৩০ এবং সকাল ৬:৩০-এ খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অল্প কিছু ম্যাচ রয়েছে যেগুলো রাত ৯:৩০-এ শুরু হবে, এছাড়াও সকাল ৭:৩০-এ কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। এই সময়গুলোতে বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ কম থাকে।
এর আগে ভারতে ফুটবল ম্যাচগুলোর দর্শক ছিল প্রায় ৭৪৫ মিলিয়ন। যেখানে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে ১৬৭ মিলিয়ন দর্শক খেলা উপভোগ করেছেন। তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে পছন্দ করেছেন।
এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ফিফা সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছিল। শুধু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ নয়, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের স্বত্বকেও এর সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ভারতীয় সংস্থা এত বেশি অর্থ দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে ফিফা দাম কমিয়ে প্রথমে ৬৫ মিলিয়ন ও পরে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা) নামিয়ে আনে।
আসলে সমস্যাটা কোথায়?
বেশিরভাগ বড় দলের খেলা ভারতীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাতে অথবা খুব ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি শুরু হবে রাত ৩:৩০-এ। নকআউট পর্ব অর্থাৎ গ্রুপ অফ ৩২, গ্রুপ অফ ১৬-এর ম্যাচগুলো প্রতিদিন তিনটি করে অনুষ্ঠিত হবে, যেগুলোর শুরু হবে ভারতীয় সময় রাত ১২:৩০, ভোর ৩:৩০ ও সকাল ৬:৩০-এ। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলো হবে রাত ১২:৩০ ও ভোর ৩:৩০-এ। সেমিফাইনাল শুরু হবে রাত ১:৩০-এ এবং ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে রাত ১২:৩০-এ।
সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো মূলত লাইভ দর্শক নিয়ে চিন্তিত। ভারতের কেরালা, গোয়া অথবা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো ফুটবলের প্রধান কেন্দ্র হলেও, এই সময়ে দেশের অন্যান্য অংশের দর্শকদের টেলিভিশন সেটের সামনে ধরে রাখা কঠিন হবে। কাতার বিশ্বকাপের সময়সূচী ভারতীয় দর্শকদের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ছিল।
পাশাপাশি, বিজ্ঞাপনের সুযোগও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটের মতো ফুটবলে প্রতি ওভারের পরে বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ নেই। শুধুমাত্র বিরতির সময় বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়, যা খুবই সীমিত। ভারতে প্রিমিয়ার লিগের সম্প্রচার স্বত্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০১৩-১৬ সালে ব্রডকাস্টিং রাইটসের মূল্য ছিল ১৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে কমে ৬৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
যাদের বিদেশি ফুটবল দেখার অভ্যাস আছে, তাদের জন্য রাত ১২:৩০-এ ম্যাচ শুরু হওয়া স্বাভাবিক। তবে এরপরও অনেকে খেলা দেখতে অভ্যস্ত নন। সাধারণত, গভীর রাতে দর্শকের সংখ্যা কম থাকে, ফলে সম্প্রচারকারী চ্যানেল বিজ্ঞাপনের খরচ তুলতে পারবে না। সন্ধ্যায় একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের যে মূল্য থাকে, রাত বারোটার পরে তা দশগুণ কমে যায়। ভোর ৩:৩০ বা তার পরে এই খরচ আরও কমে যায়। এ কারণেই মূলত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।



