পশ্চিমবঙ্গ

অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ১১ পাতার আবেদন পত্র জমা করতে কি কি নথি লাগবে জেনে নিন –

১১ পাতার দীর্ঘ অন্নপূর্ণা ভান্ডরের আবেদনপত্রে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় কোনো কিছুই বাদ যায়নি। জমির দলিলপত্র থেকে শুরু করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের হিসাবের বিবরণী—এই ধরনের প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর জমির দলিলপত্র জমা দিতে হবে এইখানেই উঠছে প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা : আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’, আর সেইমতো ইতিমধ্যেই রাজ্যসরকার তরফে প্রকাশ করা হয়েছে ১১ পাতার আবেদনপত্র। আর এই আবেদনপত্র নিয়েই বিভিন্নমহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্নতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন, যেখানে তিনি রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই ফর্মটি এখন থেকে নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন যে, আগ্রহী নাগরিকরা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই এই ফর্মটি পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।
তবে বিতর্ক কেন দানা বাঁধলো ?
১১ পাতার দীর্ঘ অন্নপূর্ণা ভান্ডরের আবেদনপত্রে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় কোনো কিছুই বাদ যায়নি। জমির দলিলপত্র থেকে শুরু করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের হিসাবের বিবরণী—এই ধরনের প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর জমির দলিলপত্র জমা দিতে হবে এইখানেই উঠছে প্রশ্ন, সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলে দেখা যাবে, মহিলাদের সাহায্য ভাতা পেতে গেলে জমির দলিল জমা দিতে হবে কেন ? এমন বিভিন্ন পোস্ট। অভিযোগ , অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে তাদের পারিবারিক তথ্যাবলী বিস্তারিতভাবে সংগ্রহ করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে,  ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনো সরকারি প্রকল্প শুরু হয়, তাহলে এই ফর্মের মাধ্যমে সংগৃহীত নথি ও তথ্য বিবেচনা করে সেই প্রকল্পের আওতায় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, সেকারণেই এতো খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে আর কী কী তথ্য দিতে হবে ?
আবেদনের শুরুতেই, আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম জানতে চাওয়া হয়েছে, সেই সঙ্গে তাঁর জন্মতারিখ এবং বসবাসের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও, পরিবারের প্রধানের আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বরও চাওয়া হয়েছে। এরপর, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে একই ধরণের তথ্য, যেমন নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর এবং মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। সেইসঙ্গে, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্ক কি, তা ফর্মের নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এখানে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে তাঁদের আধার নম্বর লিঙ্ক করা থাকতে হবে।

পরিবারের শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাদের সর্বোচ্চ অর্জিত শিক্ষার স্তর ফর্মটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, এই শিক্ষাগত যোগ্যতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি বা শংসাপত্রের কপি জমা দিতে হবে। পরিবারটির সামগ্রিক বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। এছাড়াও, সরকারকে জানাতে হবে যে পরিবারের কোনও সদস্য নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করেছেন কিনা। এর বাইরে, কেউ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা অথবা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা পেয়েছেন কিনা, সেই তথ্যও দিতে হবে। যদি কারও নাম SIR থেকে বাদ পড়ে থাকে, এবং সেই কারণে তিনি ট্রাইবুনালে আপিল করে থাকেন, তবে সেই তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এই ফর্মটিতে পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং তাদের টীকাকরণ সম্পর্কিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে তাঁর পরিবারের প্রধান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভোটার কার্ডের নম্বর, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের নাম এবং ভোটার তালিকার পার্ট নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যদি ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকে, তাহলে সেই কার্ডের তথ্য যেমন কার্ডের নম্বর এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। ফর্মের তৃতীয় অংশে, আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির বিবরণ দিতে হবে। এক্ষেত্রে, আবেদনকারীর পাকা বাড়ি আছে কিনা এবং তার পরিবারের মোট জমির পরিমাণ কত, সেই সম্পর্কিত তথ্য মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশন-এর নথির সাথে ফর্মের মধ্যে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে চার চাকার গাড়ি আছে কিনা, সেই তথ্যও আবেদনকারীকে জানাতে হবে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *