গুরুতর অসুস্থ অরূপ, মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী
পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে আগামী ৪ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা : মেসি কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত ১৭ মে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত লিওনেল মেসির ‘গোট টুর’ অনুষ্ঠানের সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দেখা দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে ৩(৫), ৩০৮(২), ৩১৮(৪), ৩৫১(২) এবং ৬১(২) ধারাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে টিকিটের কালোবাজারি করা, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ করা, অপরাধমূলকভাবে ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতারণার মতো বিষয়গুলো। শতদ্রু দত্ত বিধাননগর পুলিশের কাছে দাবি করেছেন যে, মেসি ইভেন্টের জন্য অরূপ বিশ্বাস প্রায় ২২ হাজার টিকিটের কালোবাজারি করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শতদ্রুর আরও অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনুষ্ঠানের সময় মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং যথাযথ কোনো আইনি অনুমতি ছাড়াই ফুটবল তারকার সংস্পর্শে আসার চেষ্টা করেন।
উল্লিখিত অভিযোগগুলোর তদন্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে আগামী ৪ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অরূপ বিশ্বাস আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে থানায় হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, এই মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে অরূপ বিশ্বাস আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু বারাসত আদালত সেই জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে তাঁর কাছে কোনো আইনি সুরক্ষা অবশিষ্ট নেই এবং মামলার তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ যেকোনো সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



