‘নতুন তৃণমূলের’ উত্থান বিধানসভায়, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রতই
বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রত জানান, বিধানসভার মুখ্যসচেতকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। একইসঙ্গে ডেপুটি লিডার হিসেবে চারজন সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে— যাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের এই মনোনয়নের সমর্থনে প্রয়োজনীয় চিঠি ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা : ‘নতুন তৃণমূলের’ উত্থান বিধানসভায়। শেষপর্যন্ত বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন তৃণমূল থেকে সদ্য বহিস্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী ,তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাবে তাঁদের পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে জানান, ‘‘আপাতত ৫৮ জন বিধায়ক সম্মতি দিয়েছেন। আরও দু’জন বিধায়ক রয়েছেন, তবে তাঁরা বর্তমানে রাজ্যের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁদের সম্মতি এবং সমর্থন নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেলে এই সংখ্যাটি ৬০-এ পৌঁছাবে।’’
আর এদিকে, তৃণমূলের এই ৫৮ জন বিধায়কের গোষ্ঠী বা ‘দল’কেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের মর্যাদা প্রদান করল রাজ্য বিধানসভা। বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস এই বিষয়ে একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিধানসভায় বিরোধীদের যে ঘর নিয়ে এতদিন সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য তৃণমূল বিধায়কেরা, এবার সেই বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবিই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিলেন বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস।
বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রত জানান, বিধানসভার মুখ্যসচেতকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। একইসঙ্গে ডেপুটি লিডার হিসেবে চারজন সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে— যাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের এই মনোনয়নের সমর্থনে প্রয়োজনীয় চিঠি ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আজ থেকেই তাঁরা একটি সুসংগঠিত বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের রাজনৈতিক পথ চলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করবেন। সরকারের কোনো পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত যদি ভুল হয়, তবে তাঁরা বিধানসভার অভ্যন্তরে এবং সংসদের বাইরে— উভয় জায়গাতেই তার জোরালো বিরোধিতা করবেন। তবে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁদের উদ্দেশ্য কেবল বিরোধিতা করা নয়; যদি সরকার কোনো ভালো বা গঠনমূলক কাজ করে, তবে তাঁরা সেটিকে প্রয়োজনীয় সমর্থনও প্রদান করবেন। যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁরা নিয়মিত পরিষদীয় বৈঠক করবেন এবং সেই আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের কর্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে স্থির করবেন। তবে এই ৫৮ বা ৬০ জনের সমন্বয়ে গঠিত ‘দলের’ নেত্রী আসলে কে, সেই বিষয়ে ঋতব্রত ও তাঁর সহযোগীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তারা জানিয়েছেন, মমতা বানার্জিকেই তারাই নেত্রী হিসেবে মানবেন।



