এমবাপের জোড়া গোলে বিধ্বস্ত সুইডেন ! বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স
এমবাপের জোড়া গোল, বার্কোলার একটি—৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত; টানা পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত তিন গোল করে ইতিহাস গড়ল ফ্রান্স।
স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে শেষ মুহূর্তে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কাতার থেকে ট্রফি ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল ফরাসি দলটিকে। এরপর থেকে তারা কি নতুন কোনো উদ্যম ও শক্তি নিয়ে মাঠে ফিরেছে? মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের খেলা দেখে এমনটা মনে হলেও হতে পারে। রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ফ্রান্স শুধু শেষ ষোলোতেই জায়গা করে নেয়নি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য নজিরও স্থাপন করেছে গতবারের রানার্স আপরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লো ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে নেয় ফ্রান্স। খেলার ১৬ মিনিটে প্রথম গোল করার সুযোগ পান এমবাপে, তবে তাঁর নেওয়া শটটি সরাসরি সুইডিশ গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। এর ঠিক চার মিনিট পর অর্থাৎ ২০ মিনিটে এমবাপে একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল করে দেন। এরপর বেশ কিছু আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি হলেও তারা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করার পর বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় ফ্রান্স। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ ৪৫ মিনিটের মাথায় ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে একটি দুর্দান্ত গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে বাঁশি বাজার আগে সুইডেন সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও তাদের স্ট্রাইকার সেই সুযোগটি মিস করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে বা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হন সুইডেনের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে বার্কোলার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পথে হাঁটেন এমবাপে। খেলার শেষ মুহূর্তে সুইডেন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে এমবাপে ও ওলিসেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ভিক্টর লিন্ডেলফের একটি দারুণ পাস থেকে গোলের বড় সুযোগ পেয়েছিলেন ভিক্টর গিয়োকেরেস, তবে তাঁর সেই শক্তিশালী শটটি রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনান।
পরিশেষে ৩-০ ব্যবধানের একটি দাপুটে ও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। সুইডিশ ফুটবলাররা খুব খারাপ খেলেছেন তা নয়, তবে ফ্রান্সের নিখুঁত ও ছন্দময় ফুটবলের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো শক্তি বা সামর্থ্য দেখাতেই পারেনি সুইডিশ ব্রিগেড।



