এবার কি সোদপুর স্টেশন রোডও হকারমুক্ত হবে ?মাইকিংয়ে সতর্কতা প্রশাসনের !
বিটি রোডের পর এবার কি সোদপুর স্টেশন রোডের দু-প্রান্তের হকার উচ্ছেদ হতে চলেছে ? মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রশাসনের
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিটি রোডের পর এবার কি সোদপুর স্টেশন রোডের দু-প্রান্তের হকার উচ্ছেদ হতে চলেছে ? রাজ্যজুড়ে বেআইনি দখলমুক্তকরণ অভিযান চলার মধ্যেই এবার উচ্ছেদের আতঙ্কে ভুগছেন সোদপুর স্টেশন রোডের কয়েকশো হকার। এদিন সন্ধ্যায় মাইকিং করে জায়গা খালি করার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। আর এই ঘোষণার পর থেকেই রুটি-রুজি হারানোর আতঙ্কে ঘুম উড়েছে সোদপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা সহ সোদপুর স্টেশন রোডের ২ প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করা হকারদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন মাইকিং করে ফুটপাত ও ড্রেনের উপর গড়ে ওঠা সমস্ত দোকান দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় প্রশাসনের তরফে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
হকারদের দাবী, সোদপুর ট্রাফিক মোড় থেকে সোদপুর স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে প্রায় ৫০০`রও বেশি দোকানপাট রয়েছে। তাদের অনেকেই গত ২৫ -৩০ বছর ধরে এই ব্যবসার উপর নির্ভর করেই সংসার চালাচ্ছেন। আরও ১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর মাত্র ৩ মাস পরেই দুর্গাপুজো। সোদপুর সহ সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষ যেকোনো জিনিস কেনাকাটা করতে এই মার্কেটের উপরেই নির্ভরশীল। প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী হঠাৎ করে দোকান ভেঙে দিলে রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যাবে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের। ফলে এই ঘোষণার পর থেকেই তীব্র অনিশ্চয়তায় ভূগছেন সোদপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা সহ সোদপুর স্টেশন রোডের ২ প্রান্তের হকাররা। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের জীবিকা রক্ষার্থে মানবিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের দ্বারস্থ হতে এদিন সকালে তার নব নির্মিত কার্যালয়ে পৌঁছন সোদপুরের কয়েকশো হকার। উচ্ছেদের আগে যেন তাদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হয়, এমনটাই আর্জি তাদের।
এদিন এই আর্জি নিয়ে একটি স্মারকলিপিতে ৫০০`রও বেশি দোকানদারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তারা বিধায়কের দপ্তরে সামনে জমায়েত করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়। তবে সেই সময় বিধায়ক রত্না দেবনাথ বিশেষ কাজে বিধানসভায় থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। তবে হকারদের প্রতিনিধিদল বিধায়কের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিধায়কের দপ্তর থেকে বেরিয়ে এসে AITUC জেলা কমিটির সদস্য বুদ্ধদেব বসু জানান, বিধায়ক ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দিন দুয়েকের মধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি না আসা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে বলে দাবী করা হয়।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী দিনে বিধায়কের হস্তক্ষেপে তাদের জীবিকা রক্ষায় কোনও সদর্থক সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন সোদপুর স্টেশন রোডের ২ প্রান্তের কয়েকশো হকার ও তাদের পরিবার।



