তৃণমূলের প্রার্থীতালিকায় ‘অমিল’ তারকা প্রার্থী, চেনা ছক ভেঙে কোন পথে অভিষেক
প্রার্থীতালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে এসেছে, বাতাসে ততই ভেসে বেরিয়েছে নতুন নতুন তারকার নাম যারা তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন। এই লিস্টে ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত থেকে শুরু করে একদা SFI নেত্রী, গায়িকা ইমন চক্রবর্তীও। কিন্তু বাতাসে ভেসে বেড়ানো সম্ভবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে মমতা-অভিষেক। নতুন করে কোনো খ্যাতনামাকে যেমন টিকিট দেওয়া হয়নি তেমনই পুরোনো যারা টিকিট পেয়েছেন তাদের কয়েকজনকে 'কমফোর্ট জোন' থেকে বের করে অন্য জায়গার টিকিট দেওয়া হয়েছে

মৃত্তিকা সেনগুপ্ত : চেনা রাস্তায় না হেঁটে এবার অন্যপথে তৃণমূল, ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে ২০২৬ এর নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা, যেখানে ‘তারকা চমক’ এর বদলে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ‘রাজনীতিতে’, অর্থাৎ সোজা ভাষায় বলতে গেলে তৃণমূলের যে তারকাখচিত প্রার্থীতালিকা দেখতে আপামর রাজ্যবাসী অভ্যস্ত এবার তার থেকে ভিন্ন পথেই হাঁটলো মমতা-অভিষেক। তবে প্রার্থীতালিকায় কোনও তারকা নেই তেমনটা কিন্তু নয়, যারা আগেই টিকিট পেয়ে জিতেছিলেন তাদের মধ্যে হাতে গোনা কজনকে রাখা হয়েছে প্রার্থীতালিকায়, কিন্তু নতুন কোনো তারকাকে প্রার্থী করা হয়নি।
তবে যদি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সত্যিই নতুন যোগ হওয়া তারকা খুঁজতে বেরোনো হয় তাহলে পাওয়া যাবে ২টি নাম, এক – প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, দুই – ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণকে। তবে ক্যামাক স্ট্রিট এই দুই প্রার্থীকে কোনোভাবেই শুধুমাত্র ‘তারকা’ প্রার্থীর তকমা দিতে নারাজ। তৃণমূল নেতৃত্বের কথা অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মনকে তার নিজের মাটি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেই প্রার্থী করা হয়েছে এবং একই ভাবে তুফানগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে ওই অঞ্চলের ভূমিপুত্র প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পালকে। অর্থাৎ এই দুই তারকা প্রার্থীকে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সমীকরণ প্রভাব ফেলেছে এমনটাই বলাই যায়।
প্রার্থীতালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে এসেছে, বাতাসে ততই ভেসে বেরিয়েছে নতুন নতুন তারকার নাম যারা তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন। এই লিস্টে ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত থেকে শুরু করে একদা SFI নেত্রী, গায়িকা ইমন চক্রবর্তীও। কিন্তু বাতাসে ভেসে বেড়ানো সম্ভবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে মমতা-অভিষেক। নতুন করে কোনো খ্যাতনামাকে যেমন টিকিট দেওয়া হয়নি তেমনই পুরোনো যারা টিকিট পেয়েছেন তাদের কয়েকজনকে ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের করে অন্য জায়গার টিকিট দেওয়া হয়েছে, আর এই লিস্টে প্রথমেই আছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, যিনি গত বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে জয়লাভ করেছিলেন, আর এবার সোহমকে প্রার্থী করা হয়েছে নদীয়ায় করিমপুরে। উলুবেড়িয়া পূর্ব আসন থেকে গতবার জয়লাভ করেছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসু, চলতি বছরে ওনাকে প্রার্থী করা হয়েছে হুগলির সপ্তগ্রামে। তবে এর অন্যথাও হয়েছে, নিজেদের পুরোনো কেন্দ্রেই প্রার্থী করা হয়েছে সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, অভিনেত্রী লাভলি (অরুন্ধুতি) মৈত্রকে এবং অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জিকে।ক্যামাক স্ট্র্রিটের অন্দরে গুঞ্জন ছিলো, যে খ্যাতনামা প্রার্থীরা মন দিয়ে কাজ করেননি, তাদের আর টিকিট দেবেনা তৃণমূল, বাস্তবিক হয়েছেও তাই। গতবার জিতে বিধায়ক হওয়ার পরেও এইবার টিকিট পাননি অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক, প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। কানাঘুষো ছিল, এই যদি টিকিট দেওয়া হয় তাহলে নিজের কেন্দ্রে নয় কঠিন কোনও কেন্দ্রেই দেওয়া হবে সোহম চক্রবর্তীকে, কারণ বহু বিতর্কে বারবার নাম জড়িয়েছিল এই অভিনেতা তথা বিধায়কের। কিন্তু সোনারপুর দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক লাভলীর নামেও বহু অভিযোগ থেকে সত্ত্বেও কোন জাদুবলে তিনি টিকিট পেলেন তা জানা নেই।
মমতার প্রিয় ‘তারকা প্রার্থী’ সংস্কৃতিতে হঠাৎই এই পরিবর্তন কেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে উঠে আসবে তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নাম। তৃণমূল ঘনিষ্টদের মতে, প্রার্থীর নামে টলিউড তুলে আনার এই চিন্তাধারার পরিপন্থী অভিষেক। কারণ, নিজেদের কাজ সামলে এরা কোনোভাবেই নিজেদের কেন্দ্রে সময় দিতে পারেননা, আর তা থেকেই কেন্দ্রগুলিতে স্থানীয় কর্মীদের সাথে দূরত্ব, অশান্তির সৃষ্টি হয় , যা না পসন্দ ক্যাপ্টেনের। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে, যারা খ্যাতনামা হওয়া সত্ত্বেও মন দিয়ে কেন্দ্রের কাজও করেছেন তাদের কার্যত আপন করে নিয়েছে দল। শতাব্দী থেকে শুরু করে সায়নী ঘোষ, টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি এই অভিনেত্রীদের।
সুতরাং, বলা যেতেই পারে তৃণমূল সুপ্রিমোর তৈরী বেশকিছু পথ ভেঙে অন্যপথেই হাঁটছে তৃণমূল সেনাপতি।



