পশ্চিমবঙ্গ

কাঁটাতারহীন সীমান্ত নিয়ে কড়া সরকার, কী প্রতিক্রিয়া স্থানীয়দের?

চলতি সপ্তাহের সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আর সেই বৈঠক থেকেই বঙ্গের যে সকল সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতার নেই সেখানে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় জমি দেবার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভূমি সংস্কার সচিব ও মুখ্যসচিবকে সেই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭এ নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই খুশির হাওয়া সীমান্তবর্তী এলাকায়। তবে তার মাঝেই চিন্তার ভাঁজ সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের কপালে। প্রসঙ্গত, গত শনিবারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওই একই মঞ্চ থেকে আরও ৫ বিধায়ক মন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। আর তারপরই চলতি সপ্তাহের সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আর সেই বৈঠক থেকেই বঙ্গের যে সকল সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতার নেই সেখানে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় জমি দেবার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভূমি সংস্কার সচিব ও মুখ্যসচিবকে সেই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর রাজ্যের নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এই মুহূর্তে আপনারা দেখছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী গ্রাম কালিয়ানীর ছবিটা। রাজ্য সরকারের তরফে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য দেওয়া হবে জমি – এই খবর পেতেই আশ্বস্ত বোধ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় যখনি বঙ্গে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তখনি তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু। সেই সঙ্গে কাঁটাতারের জন্য জমির অনুমোদন নিয়ে টালবাহানা করার অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবার বঙ্গে পদ্ম শিবির সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে তুঙ্গে তৎপরতা। তবে কাঁটাতার বিহীন সীমান্তের জন্য সরকারের সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেলেও চিন্তার ভাঁজও রয়েছে গ্রামবাসীদের কপালে। তাদের অভিযোগ, এর আগেও কাঁটাতার বসানোর জন্য জমির মাপ নেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে নেওয়া হয়নি। আর সেই ‘ভুল’ মাপের কারণে ভাঙা পড়েছে গ্রামের একাধিক বাড়ি। সেই সঙ্গে বিগত ৮ বছর ধরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের মূল পেশা অর্থাৎ মাছ ধরা। সীমান্তবর্তীদের একাংশের দাবি, ভারত- বাংলাদেশের মধ্যবর্তী ইছামতী নদী থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় ওপার বাংলার মৎস্যজীবীরা। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা আর মাছ ধরতে পারেন না। তাই নতুন সরকারের কাছে তাদের আবেদন -” আমাদের প্রধান জীবিকা মাছ ধরাটা যেন চালু হয়। মৎস্যজীবীরা যেন আবার জাল নিয়ে নদীতে নামতে পারে।” সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি নিয়ে কি আগামীতে কোনো পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার? উত্তর মিলবে সময়ের গর্ভে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *