কলকাতা

R.G.kar কান্ডে ৩ IPS’র সাসপেনশনে কি উঠে আসবে চাঞ্চল্যকর তথ্য ?

আরজিকর কান্ডের সময় বিনীত গোয়েল ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই সময় তাঁর পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। শেষমেশ জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের জেরে কলকতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে এসটিএফের এডিজি পদে বদলি করা হয়। অন্যদিকে অভিষেক গুপ্ত কলকাতা পুলিশের ডিসি নর্থ পদে কর্মরত ছিলেন। আর আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা পুলিশের তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল। আজ সেই তিন উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিলো রাজ্যের নব-নির্বাচিত সরকার।

৭এ নিউজ ডেস্ক: বাংলার কুর্সিতে এসেই একাধিক বিষয়ে ‘অ্যাকশন মোডে’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার আরজিকর কান্ডে তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হলো। আজ নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সাসপেন্ডেড তিন আইপিএস অফিসার হলেন- বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। প্রসঙ্গত ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থাতেই পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল এক তরুণী চিকিৎসককে।আর পরবর্তীতে খুন করা হয় তাঁকে। কর্মক্ষেত্রে তরুণী-চিকিৎসকের ধর্ষণ- খুন কান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল গোটা রাজ্য। চলেছিলো রাত দখল কর্মসূচি। বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিলেন সমাজের নানান স্তরের মানুষ। আর সেই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও ঝড় তোলে। আরজিকর (R.G.Kar) কান্ডের সময় বিনীত গোয়েল ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই সময় তাঁর পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। শেষমেশ জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের জেরে কলকতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে এসটিএফের এডিজি পদে বদলি করা হয়। অন্যদিকে অভিষেক গুপ্ত কলকাতা পুলিশের ডিসি নর্থ পদে কর্মরত ছিলেন। আর আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা পুলিশের তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল। আজ সেই তিন উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিলো রাজ্যের নব-নির্বাচিত সরকার। এদিন শুভেন্দু জানান- বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছেন আরজিকর কান্ডের নির্যাতিতার মাকে রাজ্য সরকারের হয়ে টাকা দিতে চেয়েছিলেন দুজন পুলিশ অফিসার। সেই বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তও হবে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের সাসপেন্ড না করলে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে না বলেই মত তাঁর। সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন,”ওই সময়ে এক জন ডিসি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তাঁর শরীরীভাষা এবং মুখের ভাষা রাজ্যের জন্য সুখকর ছিল না। তিনি ওই সময়ে সরকারি ভাবে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র ছিলেন না।”
প্রসঙ্গত আরজিকর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন সঞ্জয় রাই। ধর্ষণ-খুন কান্ডের মূল তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে তাই সেবিষয়ে রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করবেনা একথা স্পষ্ট জানিয়েছেন শুভেন্দু। তবে ক্ষমতায় এসে সেই সময় পুলিশ আধিকারিকদের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে ৩ আইপিএসকে সাসপেন্ড করা হলো। কল লিস্ট  ও হোয়াটস্যাপ চ্যাট মারফত কোনো মন্ত্রী কিংবা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তরফে কোনো নির্দেশ এসেছিলো কিনা সেবিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। আগামীতে আরজিকর কান্ডে আর কিকি পদক্ষেপ নেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে সেটাই এখন দেখার। সেই সঙ্গে ৩ আইপিএস অফিসারের সাসপেনশনের পর কি কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসবে ? উত্তর মিলবে সময়ের গর্ভে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *