পশ্চিমবঙ্গ

জায়ান্ট সিং এর ডেরায় হানা মানসের, সাথে ঊষসী

প্রতিপক্ষ যখন ঢাক ঢোল নিয়ে প্রচারে ব্যস্ত, সে সময়ে মানস মুখার্জীর প্রচার স্বাভাবিক ভাবেই একটু পানসে লাগলেও, তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন জয়ন্ত বা জায়ান্ট সিং এর কার্যকলাপে ভীত-ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের কাছে, উৎখাত হওয়া হকারদের কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক কামারহাটী (kamarhati) থেকে এবার তিন CPIM প্রার্থী, সেক্ষেত্রে কামারহাটীর CPIM এর সংগঠন নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়, আর সেই সংগঠনের মাথায় আবার যখন বসেন তিন বারের জয়ী প্রার্থী তখন স্বাভাবিক ভাবেই সংগঠন আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে কামারহাটী বিধানসভা তৈরী হবারপর থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই আসনটি কার্যত টানা দখলে রেখেছিলো CPIM, ব্যতিক্রম ১৯৭২। ৫০ বছর ধরে কামারহাটীর মানুষ ভরসা রেখেছিলো বামেদের উপরেই, ২০১১তে পরিবর্তনের পর ২০১৬, আবার ফেরে সেই ঐতিহ্য, ২০২১ এ বামেরা হেরে গেলেও সংগঠনে চিড় ধরেনি, বরং ২০২৬এ রাধিকারঞ্জন ব্যানার্জী, শান্তি ঘটকের কামারহাটীতে ফের লাল পতাকা তুলে ধরতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্ষীয়ান নেতা, ৩বারের বিধায়ক মানস মুখার্জী (Manash Mukherjee)। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর এক মুহূর্ত নষ্ট করেননি তিনি, দলের সর্ব স্তরের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নেমে পড়েছেন ভোটের ময়দানে। আর এদিন তিনি প্রচারের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আরিয়াদহ এলাকাকে, যে এলাকা ক`দিন আগে খবরের শিরোনামে ছিল জয়ন্ত বা জায়ান্ট সিং (Jayant Singh) এর কার্যকলাপে। শান্তিপ্রিয় ১২,১১,১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ভীত-ক্ষুব্ধ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী জয়ন্ত বা জায়ান্ট সিং এর কার্যকলাপে। আর সেটাকেই ভোটবাক্সে প্রতিফলিত করতে মানস মুখার্জীর সাথে এদিন প্রচারে হাজির ছিলেন বামপন্থী অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী(Ushashi Chakraborty), দেখা গেলো তিনিও হাত লাগিয়েছেন দেয়াল লেখার কাজে। আর তার ফাঁকেই ঊষসীর প্রত্যয়ী মন্তব্য, “তৃণমূলের পতনের সূচনা হবে এই কামারহাটীর হাত ধরেই। ”
প্রচার চলাকালীনই হাজির হন ১১নম্বর ওয়ার্ডের আদ্যাপীঠ মন্দিরের (Adyapeath Mandir) সামনে দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশী সময় ধরে হকারী করে পরিবার চালানো মানুষজনেরা , তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নাম তাদের কার্যত উৎখাত করা হয়েছে তাদের জায়গা থেকে। বিষয়টি নিয়ে তারা বিদায়ী বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল পাননি, ফলে তাদের এখন সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সেই অভিযোগ নিয়ে তারা একটি অভিযোগ পত্রও তুলে দেন মানস মুখার্জীর হাতে, প্রচারের ফাঁকে অসহায় হকারদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলতে দেখা যায় CPIM প্রার্থীকে। আর উৎখাত হয়ে যাওয়া হকারদের প্রতিনিধি পিঙ্কি শাসমল জানালেন, মানস মুখার্জীর সাথে কথা বলে তারা আশ্বস্ত বোধ করছেন, যেটা প্রশাসনের সাথে কথা বলে তারা পাননি। এ বিষয়ে মানস মুখার্জী জানালেন উৎখাত হওয়া হকারদের পাশে তিনি আছেন, যত দ্রুত সম্ভব আইনি পথে হকারদের হক ফিরিয়ে দেয়া হবে।
প্রতিপক্ষ যখন ঢাক ঢোল নিয়ে প্রচারে ব্যস্ত, সে সময়ে মানস মুখার্জীর প্রচার স্বাভাবিক ভাবেই একটু পানসে লাগলেও, তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন জয়ন্ত বা জায়ান্ট সিং এর কার্যকলাপে ভীত-ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের কাছে, উৎখাত হওয়া হকারদের কাছে। আর এটাই হয়তো ২৯শে এপ্রিল তার প্রধান USP হয়ে উঠতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *