বিজেপির প্রচারে বরানগরে তাপস, সুকান্ত, মিছিল ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ, উত্তেজনা
কলকাতা লাগোয়া বারানগরকে এবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি, ২০২৪এর উপ নির্বাচনে মাত্র ৮হাজার ১৪৮ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন সজল, যেখানে ২০২১এর ভোট এই তাপস রায়ই তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয় পেয়ে ছিলেন ৩৫হাজার ১৪৭ভোটে। তৃণমূলের এই ভোট কমে যাবার প্রবণতাকেই কাজে লাগাতে মরিয়া বিজেপি।
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বরানগর তার হাতের তালুর মতো চেনা, কারণ তার হাত ধরেই ২০১১ সালে দীর্ঘ ৭০ বছরের বাম আধিপত্যের অবসান ঘটেছিলো জ্যোতি বসুর কেন্দ্র বরানগরে। তখন তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। আর এদিন তিনি ফের সেই বরানগরে, তবে অন্য ভূমিকায়, বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষকে সাথে নিয়ে তাপস রায় এদিন তার চেনা ভোটারদের কাছে আবেদন জানালেন তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করার, তবে শুধু তাপস রায় এক নন, হাজার হাজার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ডাক্তার সুকান্ত মজুমদারও। তবে প্রচার যাত্রা খানিক এগোতেই তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা রাস্তার পাশে জড়ো হয়ে বিজেপি বিরোধী স্লোগান তুললে সৃষ্টি হয় তুমুল উত্তেজনার। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই চলতে থাকে তৃণমূলীদের বিক্ষোভ।
তবে বরানগরের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস রায়ের উপস্থিতিতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই রণে ভঙ্গ দেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা , সজল ঘোষকে পাশে নিয়ে মিছিল এগিয়ে চলে জনাকীর্ন রাজপথ ধরে। মিছিলে চলতে চলতেই সুকান্ত মজুমদার বরানগরে বিজেপির উপর বারংবার শাসক দলের হামলার পরিপ্রক্ষিতে বলেন “পুলিশ তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছে, তবে তৃণমূল যত হামলা করবে, সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়বে বিজেপির উপর। পাশাপাশি তিনি অভিষেক ব্যানার্জীকে তীব্র কটাক্ষ করে যুবসাথী” প্রকল্পে নাম লেখানোর পরামর্শ দেন।
অন্য দিকে দীর্ঘদিন পর বরানগরের পথে রাজনীতি করতে এসে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তৃণমূল কংগ্রেসকে, অম্বিকেশ মহাপাত্রের গ্রেপ্তারীর ঘটনার উদাহরণ দিয়ে প্রশ্ন তোলেন “আজ কি ভাবে এক দোল বিশেষ শ্রেণীর মানুষ বিদ্বেষ ছড়িয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে কলকাতা লাগোয়া বারানগরকে এবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি, ২০২৪এর উপ নির্বাচনে মাত্র ৮হাজার ১৪৮ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন সজল, যেখানে ২০২১এর ভোট এই তাপস রায়ই তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে জয় পেয়ে ছিলেন ৩৫হাজার ১৪৭ভোটে। তৃণমূলের এই ভোট কমে যাবার প্রবণতাকেই কাজে লাগাতে মরিয়া বিজেপি। ভোট এখনও অনেক দেরী, তবে যে ইঙ্গিত মিলছে, তাতে বলাই যায়, বামেদের একধিপত্ব শেষ হয়েছিল ২০১১তে, এবার কি তৃণমূলের ৩বারের জয়ের ধারায় থাবা বসাবে বিজেপি ? অপেক্ষা ৪ঠা মে`র।



