নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৪এর লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে কামারহাটী বিধানসভায় ১৮হাজার ৮০০ ভোটে পিছিয়ে থেকে ৫ বছর পর আবার বিধানসভা নির্বাচনে কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্ন নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে ৩বারের বিধায়ক মানস মুখার্জী। তিনি বিলক্ষণ জানেন, লড়াইটা যথেষ্ট কঠিন। ১৮হাজার ৮০০ ভোটে পিছিয়ে শুরু করাটা মোটেই সহজ কোনো বিষয় নয়। তাই এবার কামারহাটিতে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই দাঁতে দাঁত চেপে প্রচারে নেমেছেন মানসবাবু। দিন রাত এক করে ছুটে চলেছেন দক্ষিনেশ্বর, আড়িয়াদহ থেকে শুরু করে নন্দনগর, বাঘাযতীন নগর পর্যন্ত বিস্তৃত কামারহাটী বিধানসভার মোট ২১৭টি বুথে। আর ৫ বছর পর পুরানো কমরেডকে পেয়ে উচ্ছাস যেন একটু বেশিই এলাকার সিপিআইএম কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। যদিও প্রচারে মানসবাবু পাচ্ছেন না তার, দুই হাতে গড়া নেতাকে, কারন সায়নদীপ মিত্র প্রার্থী হয়েছেন বরানগরে, আর একজন দেবজ্যোতি দাস খড়দহের প্রার্থী। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে প্রবীণ এই নেতার অফুরান প্রাণশক্তি। এদিনও দেখা গেলো পাড়ার অলিতে গলিতে ঘুরে প্রচার করতে, মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে এবং শুনতে।
২দিন আগেই প্রতিপক্ষ তৃণমূলের লাভলী বয় মদন মিত্রের হয়ে রোড শো করে গেছেন বাংলা সিনেমার সুপার ষ্টার, ঘাটালের সাংসদ দেব, তাকে ঘিরে কার্যত জনসমুদ্র তৈরী হয়েছিল এলাকায়। সেই জনস্রোতকে কোনও রাজনৈতিক চাপ বলে মানতে নারাজ প্রবীণ এই প্রার্থী, মানসবাবুর কথায় “সবাই বাংলা সিনেমার সুপার ষ্টারকে দেখতে ভীড় জমিয়ে ছিল, মদন মিত্রকে দেখতে নয়।
মানস মুখার্জী এবার শুরুই করেছেন টি টোয়েন্টির মেজাজে। এক সময়ে এই মেজাজটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে। রাধিকারঞ্জন ব্যানার্জী, শান্তি ঘটকের কামারহাটী আসনে দল তাঁকেই বেছে নিয়েছিল উত্তরসূরী হিসেবে। আর মানস মুখার্জীও বোধহয় তার উপযুক্ত হয়ে উঠতে পেরেছিলেন বলেই হয়ত ৫ বছর বাদে দল আবার তার কাঁধেই দায়িত্ব দিয়েছে একদা বাম দুর্গ কামারহাটী উদ্ধারের।


