দলে থাকলে নির্দোষ, BJP তে গেলে খুনি! TMC’র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নোয়াপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক
এসআইআর ইস্যুতে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে অপমানিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েছেন নোয়াপাড়ার তিন বারের বিধায়ক মঞ্জু বসু। ১৫ বছর সরকারে তৃণমূল কংগ্রেস। তবুও কেন বিকাশ বসুর খুনিকে শনাক্ত করা গেলো না? কেন তদন্ত হলো না সেই হত্যাকাণ্ডের ? প্রশ্ন তুলছেন তিনি। সেই সঙ্গে স্বামীর খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন মঞ্জু দেবী।
৭এ নিউজ ডেস্ক : অর্জুন সিং দলে থাকলে নির্দোষ আর বিজেপিতে গেলেই খুনি! তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য আশীর্বাদ চাইতে এসে নাটক করেছিল! ভোট এলেই বিকাশ বসুর খুনের প্রসঙ্গ উঠে আসে! এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের বিরুদ্ধে এ হেন একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন নোয়াপাড়ার তিনবারের বিধায়ক তথা বিকাশ বসু ঘরণী মঞ্জু বসু। সেই সঙ্গে বিকাশ বসু খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে ভোটের আগে বিকাশ বসুর হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সরগরম নোয়াপাড়ার রাজনীতি। সালটা ছিল ২০০০, এপ্রিল মাসের পয়লা তারিখে খুন হয়েছিলেন নোয়াপাড়ার তৎকালীন দাপুটে তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু। এরপর ২০০১ সালে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসু আসেন রাজনীতির ময়দানে। নোয়াপাড়ার বিধায়কও হন তিনি। এরপর পালাবদল হয়েছে সরকারের। নোয়াপাড়া থেকেই ৩ বার বিধায়ক হয়েছে বিকাশ-জায়া। এবার আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তবে সেই নির্বাচনে আর টিকিট পাননি মঞ্জু দেবী। তৃণমৃল প্রার্থী হয়েছে ছাত্র নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য। এদিন নোয়াপাড়ার জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা গিয়েছিলো বিকাশ বসুর খুনের প্রসঙ্গ। ফের সেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম না করে অর্জুন সিংকে কটাক্ষও করেন তিনি। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী এবং ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছেন মঞ্জু দেবী।উল্লেখ্য,এসআইআর ইস্যুতে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে অপমানিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েছেন তিনি। ১৫ বছর সরকারে তৃণমূল কংগ্রেস। তবুও কেন বিকাশ বসুর খুনিকে শনাক্ত করা গেলো না? কেন তদন্ত হলো না সেই হত্যাকাণ্ডের ? প্রশ্ন তুলছেন তিনি। সেই সঙ্গে স্বামীর খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন মঞ্জু দেবী।
পাশাপাশি বিকাশ বসুর ছবি গলায় ঝুলিয়ে প্রচার করেছেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য। আর সেই বিষয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই তিন বারের বিধায়ক। দল তাঁকে অবহেলা করেছে – এমন অভিযোগও করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিকাশ বসুর ভাই প্রদীপ বসুকে টিকিট দেওয়া হলো না কেন ? এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য যে সন্তুষ্ট নন মঞ্জু দেবী এককথায় তা স্পষ্ট।অন্যদিকে তিনি যাতে বিকাশ বসু খুনের সঠিক বিচার পান সেই জন্য তাঁকে সমস্ত রকম আইনি সাহায্য করতে রাজি নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং।সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুকুল রায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।বিকাশ বসুর ছবি গলায় ঝুলিয়ে নির্বাচনী প্রচার সারার ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন নোয়াপাড়ার সিপিআইএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ও।
রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে মরিয়া মঞ্জু বসু। দলের বিরুদ্ধে এনেছেন একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ। আর সুযোগ বুঝে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন নোয়াপাড়ার বাকি দুই প্রার্থী। দলীয় কোন্দল কি ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে ? ফ্যাক্টর হবে বিকাশ বসু হত্যাকান্ড ? উত্তর মিলবে ৪ঠা মে।



