কলকাতা

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বরাহনগরের তৃণমূল কাউন্সিলর ‘মেজো’

রীতা রায় নামের বরানগরের এক স্থানীয় বাসিন্দা শান্তনু মজুমদারের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণী জানান, ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের নাম করে বিভিন্ন সময়ে শান্তনু তাঁর থেকে টাকা নিয়েছেন। মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শান্তনু বিভিন্ন দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বরানগর পৌরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর।নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন রাতে বরানগর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজোকে গ্রেফতার করেছে বরানগর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী , রীতা রায় নামের বরানগরের এক স্থানীয় বাসিন্দা শান্তনু মজুমদারের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণী জানান, ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের নাম করে বিভিন্ন সময়ে শান্তনু তাঁর থেকে টাকা নিয়েছেন। মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শান্তনু বিভিন্ন দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ,স্থানীয় এক মহিলার বাড়িতে জোর করে ভাড়াটে ঢোকানো নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। গ্রেপ্তার হওয়া ওই কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার অভিযোগকারিণীর বাড়িতে জোর করে ভাড়াটে ঢুকিয়েছিলেন এবং তা নিয়ে অশান্তি চলতেই থাকলে সেই বিবাদ মেটানোর জন্য একটি সালিশি সভা ডাকা হলে, সেখানেও শান্তনু জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই ওই মহিলা পুলিশের কাছে যান।
আর এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগ দায়ের হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তনুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জোর করে কারও বাড়িতে প্রবেশ করা, তোলাবাজি করা, হুমকি দেওয়া ও ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৩, ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ৩(৫) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, শান্তুনুর ভাই সাগর মজুমদারকেও বালি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
তবে শান্তনু মজুমদার তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে, এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে পালাবদলের পরেই তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
এলাকার বাসিন্দারাও নানা অভিযোগ তুলেছেন শান্তুনুর বিরুদ্ধে। ভোটের সময় এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি থেকে তোলাবাজি সবেতেই প্রথম সারিতে ছিলেন শান্তুনু ওরফে ‘মেজো’, এমনকি ২০২৪ সালে বরানগর বিধানসভার উপনির্বাচনের সময়  তৎকালীন সিপিআইএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যকে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছিল শান্তুনুর বিরুদ্ধে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *