দেশ

ভোপালের স্মৃতি উসকে দিল তামিলনাড়ু! অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকে মৃত ৭, আহত বহু

তামিলনাড়ুর তিরুভল্লুরে সি-ফুড প্রসেসিং কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক। মৃত্যু অন্তত ৭ শ্রমিকের, হাসপাতালে ৪০-র বেশি। শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক স্মৃতি যেন আবারও তাজা হয়ে উঠল। তামিলনাড়ুর একটি বেসরকারি কারখানায় হঠাৎ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনায় এক চরম সংকট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । এই ভয়ানক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৬৫ জন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকসহ ওই এলাকার বহু স্থানীয় বাসিন্দাই শ্বাসকষ্ট, চোখে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া এবং নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে , তিরুভাল্লু জেলার পেরিয়াপালায়ম এলাকার একটি বেসরকারি সি-ফুড প্রসেসিং ইউনিটে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী , আজ দুপুরে ওই সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় শ্রমিকরা যখন কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ করেই অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। জানা গিয়েছে, কাজ করার সময় শ্রমিকরা আচমকা তীব্র ও ঝাঁঝালো গন্ধ পান এবং এর পরপরই কেউ কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যান, আবার কেউ বমি করতে শুরু করেন। গ্যাসটি খুব দ্রুত কারখানা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় এবং রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার। মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ মেনে শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারকে সাহায্য করতে রাজ্য সরকার প্রতিটি পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অসুস্থ শ্রমিকদের বেশিরভাগই উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে; তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার একটি ‘মেজার ভালভ’ থেকে গ্যাস লিক হওয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
শিল্পাঞ্চল কিংবা ফুড প্রসেসিং ইউনিটে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের মতো দুর্ঘটনা ঘটা খুব একটা নতুন কোনো ঘটনা নয়।অতীতেও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় শিল্পকারখানাগুলোতে নিরাপত্তা বিধি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *