বাজেটে মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ সরকারি চাকরি, ৩৩% পদে মহিলাদের সংরক্ষণ
রাজ্য সরকারের কোন নির্দিষ্ট বিভাগে কতজন কর্মী নিয়োগ করা হবে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। সরকারি দফতরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে; যেখানে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : অবশেষে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলো। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম বাজেটে (West Bengal Budget) সরকারি দফতরে নিয়োগ সংক্রান্ত এক বিশাল ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় সরকারি চাকরিতে মোট এক লক্ষ শূন্যপদে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। সোমবার নিজেদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য বিশেষ সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যে ঘোষণা করা হয়েছে তা চাকুরীপ্রার্থীদের জন্য সত্যিই স্বস্তিদায়ক। উল্লেখ্য যে, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে সরকারি চাকরি বৃদ্ধি এবং মহিলাদের সংরক্ষণের বিষয়ে জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
রাজ্য সরকারের কোন নির্দিষ্ট বিভাগে কতজন কর্মী নিয়োগ করা হবে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। সরকারি দফতরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে; যেখানে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। নিয়োগের খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১ লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে ২০ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে পুলিশ বিভাগে। এছাড়া ৫০ হাজার জনকে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অধ্যাপক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১০০০ জনকে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের পদেও নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও অন্যান্য সরকারি দফতরের বাকি শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে এবং যেখানে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে নিয়োগকারী সংস্থাকে ইউপিএসসি-র (UPSC) আদলে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে। বাজেটে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই পদক্ষেপের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বহুগুণ বাড়বে।
সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ইতিপূর্বে যে ৫ বছরের ছাড় প্রদান করা হয়েছিল, সেই সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর সরকার বাজেটে ঘোষণা করেছে যে, বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়ের এই বিশেষ সুবিধাটি আগামী পরবর্তী দু’বছরের জন্য বহাল থাকবে।
রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ (Group A) চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪১ বছর করা হয়েছে। গ্রুপ বি (Group B) চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৪ বছর। অন্যদিকে, গ্রুপ সি (Group C) এবং গ্রুপ ডি (Group D) চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ বছর। এই সিদ্ধান্তটি ১১ মে থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আগামী দু’বছর এই নিয়মটি কার্যকর থাকবে।



