কলকাতা

ডিম ছুড়লেই FIR বাধ্যতামূলক! রাজনৈতিক হামলা নিয়ে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ডিম, কালি বা অন্য বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেই অবিলম্বে FIR করার নির্দেশ। রাজ্য সরকারকে গাইডলাইন তৈরিরও নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিলো কলকাতা হাইকোর্ট। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠলে, সেই প্রেক্ষিতে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। জন প্রতিনিধিদের ওপর প্রকাশ্যে ডিম ছোড়ার এই যে প্রবণতা, যা মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার মাধ্যমে একটি ‘ব্যাধি’ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে একটি মহামারীর মতো সংক্রমণের রূপ নিয়েছে। এই গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারকে এই সংক্রান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে হেনস্থা বা আক্রমণের অভিযোগ সামনে আসে, তবে প্রশাসনকে তা কেবল একটি সাধারণ বিশৃঙ্খলার ঘটনা হিসেবে গণ্য করলে চলবে না, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করতে হবে এবং ঘটনার একটি সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি, আদালত এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে তলব করেছে।
ডিম ছোড়ার ঘটনা সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলাটির শুনানিতে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো ব্যক্তিই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। রাজনৈতিক মতভেদ বা আদর্শিক বিরোধিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই বিরোধ প্রকাশের ধরণ কখনও শারীরিক হেনস্থা বা চরম অপমানজনক আচরণের মাধ্যমে হতে পারে না। আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তি বা নেতার দিকে ডিম, কালি কিংবা অন্য কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারেনা , বরং এটি সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। রাজ্যের সামাজিক দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান করা। এই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর গাইডলাইন তৈরি করে তা জনমানসে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সেই বিষয়েও রাজ্য প্রশাসনকে প্রচার করতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, প্রতিবাদের অধিকার হলো সংবিধান প্রদত্ত একটি মৌলিক অধিকার। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের সময় অবশ্যই আইনের সীমাবদ্ধতা ও নিয়ম মেনে চলতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু কোনো ব্যক্তির দিকে ডিম বা অন্য কোনো বস্তু ছুড়ে তাকে অপমান করা কিংবা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কলকাতা হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী নির্দেশের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা ও দায়িত্ব আরও সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য যে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সোনারপুরে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। আর সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন অভিযোগে রাজ্যের নানা প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্ত নেতাদের থানা বা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে বিজেপি নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে হামলা করার ঘটনা প্রায়শই ঘটছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *