লকেট চ্যাটার্জীর হাত ধরে কামারহাটী পৌরসভা বকলমে দখল নিলো বিজেপি
পৌর প্রধান ভাই সুশান্ত চ্যাটার্জী, লকেট চ্যাটার্জীর হাত ধরে কামারহাটী পৌরসভা বকলমে দখল নিলো বিজেপি
নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে কি কামারহাটী দিয়েই শুরু হলো বিজেপি`র পৌরসভা দখল, রাজ্যে এ মুহূর্তে ২২১টি পৌরসভা এবং ৭টি কর্পোরেশন রয়েছে। হাওড়া কর্পোরেশন এবং বালি পৌরসভায় বিভিন্ন জটিলতায় কোন নির্বাচিত বোর্ড নেই। আর একমাত্র তাহেরপুর পৌরসভা দখলে রাখতে পেরেছে সিপিআইএম, বাকি সমস্ত পৌর বোর্ড তৃণমূলের দখলে চলে যায় সেই ২০১৬ পৌর নির্বাচনেই। কামারহাটী পৌরসভা অবশ্য তৃণমূল দখল নিয়েছিল ২০১৪ সালেই, সিপিআইএম থেকে ২নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম পৌরমাতা আফসানা খাতুনকে তৃণমূলে যোগদান করিয়ে। এরপর ২০১৬র পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে সরাসরি ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস, চেয়ারম্যান হন গোপাল সাহা, যদিও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি সে ভাবে নির্বাচনী প্রচারে দলের প্রার্থীদের সাহায্য করেন নি, কিন্তু সে সময়ে সোমনাথ রায়চৌধুরীর প্রয়াসে নিরংকুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড দখল করে তৃণমূল, এরপর ২০২২, তৃণমূলের অন্দরেই দেখা যায় মতান্তর, ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩টি ওয়ার্ড তৃণমূলের সক্রিয় কর্মীরাই, যথাক্রমে ৬নম্বর ওয়ার্ডে রুকসানা বানু, ১৫নম্বর ওয়ার্ডে সুশান্ত চ্যাটার্জী, যিনি আবার বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জীর ভাই, এবং ২৩নম্বর ওয়ার্ডে সোমনাথ চৌধুরী নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের বিপুল ভোটে পরাজিত করেন, মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের হিসেবে দাঁড়ায় তৃণমূল ৩২, নির্দল ৩। সেবারেও পুরপ্রধান নির্বাচিত হন গোপাল সাহা। ২০২৬এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির মধ্যেও কামারহাটি কিন্তু মুখ ফেরায় নি তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে, তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন লাভলী বয় মদন মিত্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ধরে রাখতে পারলেন না কামারহাটী পুরসভার তৃণমূল বোর্ড। গত ১২ই জুলাই পৌরপ্রধান এবং কাউন্সিলরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন গোপাল সাহা, তার সাথেই পদত্যাগ করেন ৮নম্বর ওয়ার্ডের দেবাংশু ঘোষাল এবং ২৭নম্বর ওয়ার্ডের রতন চক্রবর্তী। আগেই মারা যান ৪নম্বর ওয়ার্ডের কালামুদ্দিন আনসারী, এবং ১০নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন কুমার মন্ডল। ফলে ৩৫আসন বিশিষ্ট কামারহাটী পুরসভায় বর্তমানে তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ২৭এ। আর ৩রা জুলাই ২০২৬, সেই ২০১৪এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো কামারহাটীতে। বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চ্যাটার্জীর ভাই সুশান্ত চ্যাটার্জিকে এদিনের বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিতে পৌর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করে বকলমে বিজেপি দখলে নিয়ে নিলো কামারহাটী পৌরসভা। যে সমস্ত পৌর প্রতিনিধি বিধায়ক মদন মিত্র ছাড়া কিছু বুঝতেন না, তাদের দেখা গেলো ঝাঁকের কৈ এর মধ্যে। আর পৌর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হবার পর সুশান্ত চ্যাটার্জি কার্যত স্বীকার করে নিলেন লকেট চ্যাটার্জীর নির্দেশেই পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয়েছে, সবাই হয়ত এখনও অফিসিয়ালি বিজেপিতে যান নি, কিন্তু রাজ্যের বিজেপি সরকারের সমস্ত নির্দেশ মেনেই আগামীতে চলবে কামারহাটী পুর বোর্ড।
ধর্ম এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান ইস্যু , আর সেই ধর্মগ্রন্থ থেকেই যদি ১টি লাইন বলা হয় যে “চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখনি চ, সুখানি চ” তাহলেই বোধ হয় ২০১৪ থেকে ২০২৬এর এই বৃত্তটা পূর্ন হয় কামারহাটী পৌরসভায়, ২০১৪তে বামেদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে ছিলো তৃণমূল, আর ২০২৬, অনেকটা সেই পথেই তৃণমূলের ক্ষমতা চলে গেলো বকলমে বিজেপির হাতে।



