কলকাতাভিডিও

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ! ডিম ছুঁড়লেই “জেল” ?

ডিম থেরাপী বন্ধে রাজ্যের সমস্ত জেলা পুলিশ এবং কমিশনারেটের জন্য কড়া নির্দেশিকা দিলো রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। সেই নির্দেশে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে "এই নির্দেশ ইচ্ছাকৃত অবহেলা করলে পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবান্ন সূত্রের খবর এই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে আগাম সমন্বয় তৈরী করতে হবে।

৭এ নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পরে যেন পরপর লাইন লেগে গেছে প্রাক্তন শাসক দলের (TMC) নেতা, কর্মী, মন্ত্রীদের জেলে যাওয়ার। এ রাজ্যে আগেও পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু এমন ভাবে বিভিন্ন দুর্নীতি, তোলাবাজি, পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে প্রাক্তন শাসক দল ফেঁসেছে, না, এমনটা শোনা বা দেখা যায়নি কোনও দিন। কিন্তু ২০২৬এর নির্বাচনে বিজেপি জেতার পর থেকেই যেন ধুম লেগেছে নেতা, মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারীর, শুধু তাই নয়, আদালতে বা থানায় নিয়ে যাবার পথে ডিম ছুঁড়ে (Egg Attack Incident) তাদের প্রতি ঘৃণা বর্ষণের রীতিও অব্যাহত। যেটা শুরু হয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীকে (Abhishek Banerjee) দিয়ে, সোনারপুরের সেই ঘটনার পর উৎসাহ যেন আরও বেড়ে গেছে যারা ডিম ছুড়ছে তাদের, তৃণমূলের কোনও নেতা নেত্রী বোধহয় বাদ যাচ্ছেন না সেই ডিম থেরাপীর হাত থেকে, এমন কি কোচবিহারে সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখাৰ্জীকেও মুখোমুখি হতে হয় ডিম বর্ষণের। কিন্তু তার আগেই কলকাতা হাই কোর্ট কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছিলো এই অসভ্যতা বন্ধ করার বিষয়ে। কোর্টের নির্দেশ ছিল, মানবিকাধিকার লঙ্ঘন করে এমন কোনও কাজ করলেই, তার বা তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে। যে বা যারা ডিম, পাথর বা জুতো ইত্যাদি ছুঁড়বে, তাদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ FIR দায়ের করে গ্রেপ্তার করতে হবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো এই সমস্ত ঘটনার সাথে যেহেতু বর্তমান শাসক দলের কর্মীরাই যুক্ত, তাই পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে , ব্যতিক্রম মীনাক্ষী মুখার্জীর ( Minakshi Mukherjee) ঘটনা, কারন মীনাক্ষীর গাড়িতে যারা ডিম ছুঁড়েছিলো, তিনি নিজে তাদের ছবি তুলে CP অফিসে ধর্ণা দিয়ে পুলিশকে বাধ্য করেছিলেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে। আর এবার এই ডিম থেরাপী বন্ধে রাজ্যের সমস্ত জেলা পুলিশ এবং কমিশনারেটের জন্য কড়া নির্দেশিকা দিলো রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। সেই নির্দেশে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে “এই নির্দেশ ইচ্ছাকৃত অবহেলা করলে পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবান্ন সূত্রের খবর এই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে আগাম সমন্বয় তৈরী করতে হবে। সাইবার মনিটরিং ইউনিটগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে নজরদারী চালায় এবং যদি এমন কোনও ঘটনার আঁচ পায় , সাথে সাথে স্থানীয় থানায় জানাতে হবে, যাতে পুলিশ আগাম ব্যবস্থা নিতে পারে। এরপরেও যদি ডিম বা জুতো বা পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে, তাহলে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ,বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ভিডিও খতিয়ে দেখে ডিম ছোড়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়া বা ফেরত নিয়ে আসার রাস্তায় আরও বেশী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি থানা বা আদালত চত্বরে অনাহুতদের ভীড় কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দরকার হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করার ব্যবস্থাও করতে হবে পুলিশকে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বাড়ি,অফিস বা অন্যান্য যেখানে হামলা হবার সম্ভাবনা থাকতে পারে সেখানেও নিরাপত্তার জোরদার ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে। এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেবে রাজ্য প্রশাসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *