সম্পাদকীয়

পানিহাটীতে জয়ের রেকর্ড তৈরীর হাতছানি উপেক্ষা করে সরে গেলেন নির্মল

নির্মল ঘোষের কাছে সুযোগ ছিলো সিপিআইএমের গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ৭বার বিধায়ক হবার রেকর্ডের কাছাকছি পৌঁছনোর, কিন্তু একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে একেবারে মাহেন্দ্রক্ষনেই তিনি ব্যাটন তুলে দিলেন তীর্থঙ্করের হাতে, এবার সেই ধারা বজায় রাখার দায়িত্ব অবশ্যই তীর্থঙ্কর ঘোষের।

চন্দন সেনগুপ্ত : জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত পানিহাটির তৃণমূল কংগ্রেস আর নির্মল ঘোষ যেন সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে। ১৯৮২সালে খড়দহ বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ, তার বহু আগে থেকেই INTUC বা জাতীয় কংগ্রেসের শ্রমিক নেতা হিসেবে রাজ্য জুড়ে পরিচিতি লাভ। সুব্রত মুখার্জী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীদের সাথে দেশ জুড়ে শ্রমিক আন্দোলনের কাজ করে ধীরে ধীরে আজকের নির্মল ঘোষ হয়ে ওঠা। ১৯৮২তে খড়দহে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান সিপিইএমের কমল সরকারের কাছে। এরপর ১৯৯৬সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ১ম বার বিধায়ক হন পানিহাটী থেকে, নির্বাচনের অব্যহতি পরেই তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে, তারপর ২০০১, এবার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ফের জয়ী হন পানিহাটী থেকেই। ২০০৬সালে সামান্য ভোটে পরাস্ত হন সিপিআইএমের গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কাছে, তারপর ২০১১ থেকে ২০২১ টানা তিনবার, মোট ৫ বার পানিহাটীর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন নির্মল ঘোষ। ষষ্ঠ বার ভোটে জিতে সিপিআইএমের গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ৭বার বিধায়কের রেকর্ড প্রায় ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন তিনি, বয়স জনিত কোনরকম অসুবিধা তার ছিল না, পানিহাটীর মানুষ ধরেই নিয়ে ছিল এবারেও পানিহাটীতে “নান্টু দা”, কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ব্যাটন তুলে দিলেন দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার যুব সহ সভাপতি, দলের খড়দহ-পানিহাটীর কোঅর্ডিনেটর তীর্থঙ্কর ঘোষের হাতে। বলতে গেলে তার হাতেই তৈরী যে সাম্রাজ্য তা রক্ষার দায়িত্ব দিলেন নিজের ছোট ছেলের হাতেই। তবে নির্মল ঘোষ নিজে ব্যাপারটিকে বাবা-ছেলের হাত বদল মানতে নারাজ, তাঁর মন্তব্য “দীর্ঘ ২০ বছরের বেশী সময় ধরে ছাত্র-যুব আন্দোলনের সাথে যুক্ত, পৌরপ্রতিনিধি এবং সংগঠক হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমান করে অভিষেক এবং মমতা ব্যানার্জীর আশীর্বাদ পেয়েছে তীর্থঙ্কর, এবং বাবা হিসেবে তিনি আশাবাদী, “ছেলে আরও অনেক বেশী ভোটে জিতবে”
নির্মল ঘোষের কাছে সুযোগ ছিলো সিপিআইএমের গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের ৭বার বিধায়ক হবার রেকর্ডের কাছাকছি পৌঁছনোর, কিন্তু একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে একেবারে মাহেন্দ্রক্ষনেই তিনি ব্যাটন তুলে দিলেন তীর্থঙ্করের হাতে, এবার সেই ধারা বজায় রাখার দায়িত্ব অবশ্যই তীর্থঙ্কর ঘোষের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *