ভোটবঙ্গে নয়া রঙ্গ? বেলঘরিয়া স্টেশনে কর্মীদের সঙ্গে ঝালমুড়ি খেলেন মদন মিত্র!
এদিন আগরপাড়া থেকে লোকাল ট্রেনে করে বেলঘরিয়া পৌঁছন 'লাভলী বয়' মদন মিত্র। আর সেখানে দলীয় কর্মী- সমর্থকদের সঙ্গে ঝালমুড়ি খেলেন কামারহাটিরর তৃণমূল প্রার্থী। সেই সঙ্গে স্টেশনে উপস্থিত কচিকাঁচাদের সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা গেলো তাঁকে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটবঙ্গে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এবার নয়া সংযোজন ঝালমুড়ি খাওয়া?বঙ্গ রাজনীতিতে ঝালমুড়ি নিয়ে হওয়া জোর চর্চা অন্তত এই প্রশ্নটাই এখন তুলছে সাধারনের মনে। অতি সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে প্রচার করতে গিয়ে স্থানীয় এক দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে সকলেরই প্রায় দেখা হয়ে গিয়েছে। এবার সেই ঝালমুড়িকে হাতিয়ার করে পাল্টা প্রচারে নামলেন কামারহাটীর (kamarhati) তৃণমূল (TMC) প্রার্থী মদন মিত্র। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী এদিন মুড়ি খেতে খেতে আবারো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এদিন তার ঝালমুড়ি খাওয়াকে ‘নাটকের খাবার’ বলেও কটাক্ষ করলেন মদন। আর ঝালমুড়ি খাওয়ার কর্মসূচিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ও বাঙালির আবেগকে অপমান করার বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে অভিহিত করলেন।প্রসঙ্গত,এদিন আগরপাড়া (Agarpara) থেকে লোকাল ট্রেনে করে বেলঘরিয়া (Belghoria) পৌঁছন ‘লাভলী বয়’ মদন। আর সেখানে দলীয় কর্মী- সমর্থকদের সঙ্গে ঝালমুড়ি খেলেন কামারহাটিরর তৃণমূল প্রার্থী। সেই সঙ্গে স্টেশনে উপস্থিত কচিকাঁচাদের সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা গেলো তাঁকে।
গণতন্ত্রের সবথেকে বড় উৎসব বলে মনে করা হয় নির্বাচনকে। আর সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। আর ভোটের আগে প্রার্থীদের প্রচারও যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ আগামী ৫ বছরের জন্য কাকে নির্বাচন করবেন মানুষ -তা এই জনসংযোগ কর্মসূচিগুলির মাধ্যমেও কিন্তু অনেকসময় ঠিক করে থাকেন ভোটাররা। তবে এবারের ভোটে প্রার্থীদের একের পর এক আজব কান্ড সেই নির্বাচনী প্রচারকে যেন ‘সার্কাসে’ পরিণত করেছে। কখনো ভোটারের দাঁড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন প্রার্থী আবার কখনো মাছ বিক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছেন কোনো ক্যান্ডিডেট। অন্যদিকে কামারহাটীর তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র সর্বদাই ‘কালারফুল’ থাকতে পছন্দ করেন। তাই তাঁর প্রচার কর্মসূচিতেও থাকছে হরেক রকম চমক। কখনো তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে মহার্ঘ্য গ্যাস সিলিন্ডারকে নতুন বৌয়ের মত পালকিতে করে নিয়ে গিয়েছেন, আবার কখনো করেছেন মাছ রান্না। এবার একেবারে লোকাল ট্রেনে করে গিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার মাধ্যমে প্রতীকী-প্রতিবাদ ও প্রচার কর্মসূচি সারলেন তিনি। একদিকে যখন কাজ পেতে ও অন্ন সংস্থান করতে নাজেহাল বঙ্গবাসী তখন আমজনতাকে কর্মসংস্থানের আশ্বাসের কথা শুনিয়ে নয়, বরং মাছ কেটে, দাঁড়ি কামিয়ে, রুটি বেলে কিংবা চপ ভেজে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের একাংশ! সাধারণ মানুষের ছাপোষা জীবনযাপনের সঙ্গে মিশে যেতে চাইছেন হেভিওয়েট নেতারা। নির্বাচনের আগে প্রচার কর্মসূচিতে প্রার্থীদের কান্ডকারখানা সত্যিই গ্রিক রাজা আলেকজান্ডারের বলা কথাই যেন মনে করায় – ‘সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!’


