আজ জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা: ভক্তি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এক মহাপবিত্র উৎসব
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ১০৮ কলসের পবিত্র জলে মহাস্নান, এরপরই শুরু হবে অনবসর পর্ব ও রথযাত্রার প্রস্তুতি
নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই তিথিতে দেশজুড়ে ভক্তিভরে পালিত হচ্ছেজগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন মন্দির – আশ্রমে বিশেষ পূজা, মহাস্নান, নামসংকীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
স্নানযাত্রার ইতিহাস :
শাস্ত্রীয় বিধান ও পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, স্নানযাত্রার দিন অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভূ মনুর যজ্ঞের দৈব প্রভাবে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব ঘটেছিল। প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও প্রথাগত ধারণা অনুসারে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ ও অত্যধিক গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ১০৮টি কলসি শীতল জল দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। এই স্নানকার্য সম্পন্ন করার পর তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেই কারণে তাঁদের টানা ১৫ দিনের জন্য সম্পূর্ণ নিভৃতবাসে রাখা হয়। এই সংকটকালীন সময়ে রাজবৈদ্যদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে তাঁদের নিয়মিত বিশেষ ওষধি এবং পুষ্টিকর পথ্য প্রদান করা হয়। এই ১৫ দিনের সময়কালে সাধারণ ভক্তদের জন্য জগন্নাথদেবের সরাসরি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। ভক্তদের দর্শনের সুবিধার্থে পুরীর শ্রীজগন্নাথ দেবের মূল মন্দিরে বিগ্রহের পরিবর্তে তিনটি পবিত্র পটচিত্র স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ ১৫ দিনের এই ঘরবন্দি দশা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবতারা মাসির বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই বিশেষ ও পবিত্র যাত্রাই মূলত রথযাত্রা নামে পরিচিত।
স্নানযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য প্রতীক। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনে ভগবান জগন্নাথের মহাস্নান দর্শন করলে জীবনের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবসেবার আদর্শকে আরও দৃঢ় করে। ভক্তদের কাছে এই দিনটি রথযাত্রার আগমনের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।



