শেষ ৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য নাটক! ইংল্যান্ডকে ২-১ হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোলের পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারোর হেডে ২-১ জয়, ফাইনালে মেসিদের আর্জেন্টিনা।

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের জয়ের স্বপ্ন এবং ইতিহাস গড়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখলো আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও এক অবিশ্বাস্য এবং নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তারা ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল। লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থরা ২-১ গোলের ব্যবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়লাভ করেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনো দলই গোল করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি । খেলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার ছিল ১২টি এবং ইংল্যান্ডের ছিল ৭টি। মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রমাগত ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের কারণে খেলা বারবার থমকে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেফারি চরম হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং সম্ভবত দ্রুত বিরতি পাওয়ার আশায় তিনি খেলার গতি সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। অত্যধিক ফাউল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষে মাত্র ৩ মিনিট সংযুক্তি সময় (extra time) দেওয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায় এবং ৫৫ মিনিটের মাথায় ম্যাচের প্রথম গোলের দেখা মেলে। মর্গ্যান রজার্সের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে এগিয়ে দেন অ্যান্টনি গর্ডন। ইংল্যান্ডের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনার আসল খেলার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে মেসি বাহিনী। সমতা ফেরানোর জন্য আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে শুরু করলেও ইংল্যান্ডের গোলকিপার একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন। এর পাশাপাশি ভাগ্যও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ছিল; কারণ মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে করা আর্জেন্টিনার দুটি জোরালো শটই পোস্ট লেগে ফিরে আসে।
তবে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট ছিল সম্পূর্ণ নাটকীয়তায় ঘেরা, যা সবকিছু বদলে দেয়। মেসি যেন জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় আর্জেন্টিনার ভাগ্যকে রক্ষা করলেন। এমনিতেই গোল হজম করার পর লা আলবিসেলেস্তেরা তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করেছিল, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেই আক্রমণাত্মক ঝাঁঝ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। পিকফোর্ডের ঠেকানো বল থেকে মেসি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একটি আক্রমণ তৈরি করেন এবং বক্সের বাইরে থেকে এনজ়ো ফার্নান্দেজ়কে (Enzo Fernández) একটি দুর্দান্ত পাস প্রদান দেন। চেলসির এই মিডফিল্ডার তাঁর বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটের মাধ্যমে ৮৫ মিনিটে গোল করে ম্যাচের সমতা ফিরিয়ে আনেন।
সমতা ফিরিয়ে আনার পর আর্জেন্টিনা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারছিল যে, এই তীব্র আক্রমণের মুখে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ আবারও ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড আসলে পর পর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। অবশেষে ৯০+২ মিনিটের মাথায় আবারও মেসির জাদুকরী স্পর্শ দেখা যায়। ডানপ্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ডান পায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সমস্ত উৎকণ্ঠা দূর করেন লাউতারো। সবশেষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয় ‘লা আলবিলেস্তে’রা।



