পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে মৃত্যুর মুখে সোনম ওয়াংচুক! ২০ দিনের অনশনে সংকটজনক অবস্থা
NEET-সংক্রান্ত আন্দোলনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের জেরে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থা।

নিজস্ব সংবাদাতা : প্রতিবাদের নাম সোনাম ওয়াংচুক। টানা ২০ দিন ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। মূলত নিট (NEET) সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ- প্রতিবাদ শুরু করেন, আর এই আন্দোলনের সাত দিন পর থেকেই সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন।
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক তথা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দাবি করেন যে, সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আশঙ্কাজনক। তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, “আমি এই কথা বলতে চাই না, কিন্তু সোনম ওয়াংচুক এখন মৃত্যুশয্যায়।” অভিজিৎ ডিপকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনশনের কারণে সোনম ওয়াংচুকের ওজন এতটাই কমে গিয়েছে যে তাঁর শরীরের হাড়গুলো এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। শারীরিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে কোনো ধরনের সাহায্য ছাড়া তিনি নিজে থেকে উঠে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না; এমনকি তাঁকে ধরে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তিনি দুইবার প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন।
সোনমের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরাও নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। চিকিৎসক সতীশ লাম্বা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সোনম যদি এই অনশন অব্যাহত রাখেন, তবে তাঁর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করবে এবং তিনি দ্রুত ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিওর’ বা বহু অঙ্গ বিকল হওয়ার অবস্থার দিকে এগোচ্ছেন। অনশন চলতে থাকলে শরীরের গ্লুকোজ রিজার্ভ পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে, যার ফলে শরীর টিকে থাকার তাগিদে জমিয়ে রাখা চর্বি এবং পরবর্তীতে পেশি ব্যবহার করতে শুরু করবে। সহজ কথায়, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শরীর নিজেই সোনমকে ক্ষয় করতে থাকবে। গত ২৮ জুন অনশন শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর ওজন ৯ কিলোগ্রামেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর ওজন দাঁড়িয়েছে ৫৬.৯ কিলোগ্রামে। এছাড়া তাঁর রক্তে কিটোনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে এবং ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে, মঞ্চ থেকে নামার সময় তাঁকে কয়েকজনের সহায়তায় অত্যন্ত ধীরগতিতে হাঁটতে হচ্ছে। শারীরিক প্রচণ্ড দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সমর্থকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে তিনি হাসিমুখে হাত নাড়তে ভোলেননি। তাঁর এই অনশন কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন পেলেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রে শাসনে থাকা কোনও নেতা-মন্ত্রীদের দেখা যায়নি সোনামজীর সাথে দেখা করতে। আমাদের দেশের পড়ুয়াদের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে এই অনশন চলছে তাদের টনক কবে নড়ে সেই প্রতীক্ষাতেই দিন গুনছেন মৃত্যুপথযাত্রী সোনাম ওয়াংচুক।



