যে স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতির জন্য তার মেয়েকে খুন হতে হয়েছে সেই দুর্নীতি নিয়েই বিধানসভায় মুখর হবেন অভয়ার মা
ন্ত ৪ঠা মে গননার শেষে দেখা যায় পানিহাটীর মানুষ রায় দিয়েছেন তার মানে রত্না দেবনাথের পক্ষেই, যেটাকে তিনি "অভয়ার বিচারের দাবীর জয়" বলছেন। আর জয়ের পর কর্মী সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যেও তার স্পষ্ট ঘোষণা, যে স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতির জন্য তার মেয়েকে খুন হতে হয়েছে সেই স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতি নিয়েই তিনি বিধানসভায় মুখর হবেন।

মৃত্তিকা সেনগুপ্ত : ছিলেন একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৯ই অগাস্ট তারিখটা বদলে দিলো সব কিছু। আর.জি. কর হাসপাতালের ভিতরে একজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপর অকথ্য অত্যাচারের পর তাকে খুন করার ঘটনার সাথে জড়িয়ে যায় তার পরিবারের নাম। কারন সেই অত্যাচারিত, খুন হয়ে যাওয়া মেয়েটি ছিল তার একমাত্র সন্তান। অনেক কষ্ট করে তিলেতিলে সেই মেয়েকে গড়ে তুলেছিলেন একজন ডাক্তার হিসেবে। আর একদল দুর্নীতিগ্রস্থ প্রশাসক ও দুষ্কৃতীরা মিলে ৮ই অগাস্ট ২০২৪ রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় সেই মেয়েকে খুন করে নৃশংস ভাবে। সেই ঘটনার পর তার মেয়ে হয়ে উঠে সারা বাংলার তো বটেই, সারা দেশের অত্যাচারিত নারীদের প্রতীক। দেশ জুড়ে শুরু হয় “অভয়া আন্দোলন” . কিন্তু তদন্তের শুরুতেই রাজ্য পুলিশ যে দ্রুততার সাথে ঘটনার সমস্ত নথি নষ্ট করে দেয়, যে আদালতে আসল দোষীদের বিরুদ্ধে কোন তথ্য প্রমান পেশ করতে অপরাগ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও। তবে থেমে যান নি অভয়ার মা, ২০২৬এর বিধানসভা ভোটকে তিনি বেছে নেন তার মেয়ের বিচারের শেষ হাতিয়ার হিসেবে। পানিহাটী, যে মাটিতে বড় হয়ে উঠেছিল অভয়া, সেই বিধানসভাতে তিনি প্রার্থী হয়ে যান ভারতীয় জনতা পার্টির। প্রচারের শুরুর দিন থেকে তার দাবী ছিলো “অভয়ার অধরা বিচার” . আর শেষ পর্যন্ত ৪ঠা মে গননার শেষে দেখা যায় পানিহাটীর মানুষ রায় দিয়েছেন তার মানে রত্না দেবনাথের পক্ষেই, যেটাকে তিনি “অভয়ার বিচারের দাবীর জয়” বলছেন। আর জয়ের পর কর্মী সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যেও তার স্পষ্ট ঘোষণা, যে স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতির জন্য তার মেয়েকে খুন হতে হয়েছে সেই স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতি নিয়েই তিনি বিধানসভায় মুখর হবেন।
তবে গণনা শেষ হবার পরে বিচ্ছিন্ন যে হিংসার ঘটার অভিযোগ উঠেছে, পানিহাটীর নতুন বিধায়ক রত্না দেবনাথ জানালেন, সবটা তিনি জানেন না, তবে তৃণমূলের যে চরিত্রের কথা তিনি জানেন, তাই তার মনে হয় বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তারাই।



