ভোট গণনার আগে স্ট্রংরুম নিয়ে ‘স্ট্রং’ অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলির
একদিকে যখন উত্তর কলকাতার স্ট্রংরুমের সামনে মুখোমুখি যুযুধান দুই শিবির তখন দক্ষিণ কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে পৌঁছন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজির হন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী তথা মমতার বিশেষ 'আস্থাভাজন' ফিরহাদ হাকিম। স্ট্রংরুমের ভেতরে চার ঘন্টা ছিলেন মমতা।
৭এ নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে গত ২৯ শে এপ্রিল মিটেছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ (Election 2026) পর্ব। ২০২৬’র বিধানসভা নির্বাচনে আশ্চর্জনকভাবে ঘটেনি কোনো প্রাণহানির ঘটনা। সেই সঙ্গে দুদফা মিলিয়ে রেকর্ড হারে ভোটও পড়েছে। ফলত, গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবে যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছেন আমজনতা তা একেবারে স্পষ্ট। তবে ভোট মিটতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনার। সেই সঙ্গে স্ট্রং রুম নিয়েও চলছে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, ২৯ শে এপ্রিল ভোট মেটার পর থেকেই প্রকাশ্যে আসছিলো নানান বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল। আর একাধিক নামজাদা সংস্থার প্রস্তুত করা সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকছে বিজেপির। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই বিজেপির থেকে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে। তবে সেই সমীক্ষার ফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বাম-ডান কোনো পক্ষই। গতকাল স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো (Mamata Banerjee) সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা দিয়ে অভিযোগ করেন- বিজেপি টাকা দিয়ে সেই সব সমীক্ষা করিয়েছে। এমনকি সেই ভিডিওতে তিনি তাঁর দলীয় প্রার্থীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন – প্রয়োজন হলে তাদেরকেও রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে হবে। আর সেই বার্তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুনাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’র অভিযোগ তুলে তাঁরা অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরেই বসে থাকেন দীর্ঘক্ষণ। এরপর তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্ট্রংরুমের সামনে জমায়েত করার অভিযোগ তুলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক এবং মানিকতলার পদ্ম প্রার্থী তাপস রায়। পরবর্তীতে উঠে যায় তৃণমূল প্রার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি এবং তৃণমূলের তরফে তোলা অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।তাঁরা জানিয়েছে, বিধি মেনেই স্ট্রংরুমের করিডরে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল।
একদিকে যখন উত্তর কলকাতার স্ট্রংরুমের সামনে মুখোমুখি যুযুধান দুই শিবির (TMC Vs BJP) তখন দক্ষিণ কলকাতার শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে পৌঁছন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজির হন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী তথা মমতার বিশেষ ‘আস্থাভাজন’ ফিরহাদ হাকিম। স্ট্রংরুমের ভেতরে চার ঘন্টা ছিলেন মমতা। রাত ১২ টার পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে ভোট লুটের চেষ্টা ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগও করেছেন তৃণমূলের দলনেত্রী। আর মমতা যখন স্ট্রং রুম ‘পাহারা’ দিচ্ছিলেন তখন ভবানীপুর আসনের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্টও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। ফলত স্ট্রং রুমের নজরদারিতে কসুর করছেনা কোনো দলই। অন্যদিকে এদিন পানিহাটীর গুরুনানক কলেজের স্ট্রংরুম পরিদর্শন করলেন বরানগরের (Baranagar) তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী এবং খড়দহের (Khardaha) বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে স্ট্রংরুম। তবুও নিশ্চিন্ত থাকতে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। ইতিমধ্যেই কলকাতার ৭ টি স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। কাজেই ভোট মিটলেও বঙ্গে রয়েছে নির্বাচনের উত্তাপ। দিকে দিকে চলেছে ভোট-পরবর্তী হিংসা। এবার স্ট্রং রুম নিয়ে সতর্ক সমস্ত রাজনৈতিক দলই। আগামী ৪ ঠা মে কোন দলের পক্ষে জনগণের রায় যায় সেটাই এখন দেখার।



