শক্তিশালী ঝড়ে বিধস্ত উত্তরপ্রদেশের ৩০ জেলা, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০০
ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে, যার ফলেই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রবল ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় মোবাইল পরিষেবাও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রবল ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড অযোধ্যা, বারাণসী এবং গাজ়িয়াবাদ-সহ উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষত ঝড়-বৃষ্টি ও ধুলিঝড়ের তাণ্ডবে (Thundersquall) অন্তত ৮৯ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর অনুযায়ী ,ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে, যার ফলেই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রবল ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় মোবাইল পরিষেবাও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রশাসন সূত্র মারফত জানা গেছে, এই ঝড়বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ, প্রতাপগড়, ভদোহী, ফতেহপুর, উন্নাও, কানপুর দেহাত, চন্দৌলী, সোনভদ্র এবং বদায়ুঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই সকল এলাকাগুলিতে দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই স্থানীয় জেলা প্রশাসনগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, তিনি প্রশাসনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য করার কথা বলেছেন।
রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে প্রয়াগরাজে, যেখানে ২১ জন মারা গিয়েছেন। এরপরই রয়েছে ভদোহী, যেখানে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফতেহপুরে ৯ জন, বদায়ুঁতে ৫ জন, প্রতাপগড়ে ৪ জন এবং চন্দৌলী ও কুশীনগরে ২ জন করে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সোনভদ্রেও ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রয়াগরাজের হন্ডিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাত জন মারা গিয়েছেন। ফুলপুরে ৩ জন, সোরাঁওয়ে ৩ জন, মেজায় ২ জন এবং সদরে ১ জনের ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে।
তবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে একটা বড় প্রশ্ন সকলের মনে দেখা দিয়েছে যে, মে মাস এলেই কেন উত্তর ভারতের আকাশে এমন ভয়ঙ্কর ঝড় সৃষ্টি হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি সাধারণ কালবৈশাখী ঝড় নয়। এই ধরনের ঝড়কে ‘থান্ডারস্কোয়াল’ বলা হয়ে থাকে, যা খুবই দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং একইসাথে এটি একটি ধ্বংসাত্মক বায়ুমণ্ডলীয় ঝড়।
যাচাই করা হয়নি এমন একটি ঝড়ের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে,যেখানে দেখা যাচ্ছে উত্তর প্রদেশের বরেলী শহরে একটি শক্তিশালী ঝড় টিনের তৈরি একটি ছাউনিসহ এক ব্যক্তিকে প্রায় ৪৫ ফুট উপরে তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এই দুর্ঘটনায় লোকটি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



