শুভেন্দুর হুঁশিয়ারীই সত্যি হলো ! বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে খরচ অন্যতম অভিযুক্ত
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুরে কিশোরী ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। বিজেপি এলে এই ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব বিকেলে খরচ করব। ২৬`র বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারীই সত্যি হলো। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হলো বারুইপুরে কিশোরী ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। যে পুকুরে কিশোরীকে বস্তাবন্দী করে ফেলা হয়েছিল, তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন এই প্রভাস মন্ডলই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিক ও তার টিম অপরাধস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য যান। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হন। এরপর দ্রুত তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়া কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ওই কিশোরীকে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দোষীদের গ্রেফতারি এবং কঠোর শাস্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে ওঠে বারুইপুর। ওই পুকুরে কিশোরীর দেহ ফেলা হয়েছে এবং করা এই ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে এই তথ্য পরিবার এবং এলাকাবাসীকে জানিয়েছিলো ওই এলাকারই বাসিন্দা প্রভাস মন্ডল। আর ওই ঘটনার পরেই ক্ষিপ্ত জনতার হাতে আটক হন প্রভাস। এরপরেই বারুইপুর কিশোরী ধর্ষণ-খুনের মামলায় পুলিশ তাকেই প্রথম গ্রেফতার করে। আর প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানার পুলিশ। আর ঘটনাচক্রে বারুইপুরে নির্যাতিতার বিচারের দাবীতে রাজ্যজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো কিশোরী ধর্ষণ-খুনের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল।
বুধবার ভোরে বেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রভাস মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়, সেই সঙ্গে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে দেখবার অনুমতিও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন অভিযুক্তের মা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পরিণতিই সে ভোগ করেছে। তার মৃতদেহ দেখতে বা আনতে চাননা না তিনি। এমনকি এমন ছেলের মৃত্যুতে কোনও আক্ষেপ নেই তার।


