কলকাতা

ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট মামলায় বড় স্বস্তি কালীঘাট তৃণমূলের, বিদ্রোহী শিবির ও পুলিশের ভূমিকায় হাইকোর্টের কড়া প্রশ্ন

তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ অফিসারের কাউন্টার সই বাধ্যতামূলক। বিচারপতির প্রশ্ন— ‘৪ মে-র আগে অভিযোগ কোথায় ছিল?’ পুলিশের অতিসক্রিয়তাও কাঠগড়ায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা : অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের স্বস্তি পেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের কজন বিধায়কের আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার একটি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছিল। এই আটকে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরায় ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পক্ষে রায় দিয়ে স্বস্তি দিয়েছেন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রয়োজনে ওই তিনটি ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার অধিকার এখন তৃণমূলের রয়েছে। এমনকি কালীঘাট তৃণমূল তাদের প্রয়োজনীয় আইনি লড়াইয়ের খরচও এই অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বিশেষে চালাতে পারবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপাতত দলীয় নেতৃত্বের হাতে না রেখে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই অ্যাকাউন্টের জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, এই স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমেই কালীঘাট তৃণমূল তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেতুলতে পারবে। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারই ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করবেন। এছাড়া দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও অন্যান্য যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ স্পেশ্যাল অফিসার প্রদান করতে পারবেন। আইনি খরচের ক্ষেত্রেও কালীঘাট তৃণমূল এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। তবে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে; দলের যে দু’জন ব্যক্তি সই করার জন্য অনুমোদিত, তাঁরাই অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু সেক্ষেত্রেও স্পেশ্যাল অফিসার বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কাউন্টার সই থাকা বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতিদিনের সমস্ত খরচের বিস্তারিত হিসাব নিয়মিতভাবে আদালতকে জানাতে হবে। তবে স্পেশ্যাল অফিসার নিজের ইচ্ছামতো বা কেউ চাইলেই কোনো বড় অংকের অর্থ এই অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে পারবেন না।
অন্যদিকে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত এই মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন বিদ্রোহী তথা ঋতব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল । বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় এই অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা তোলা হয়েছিল এবং সেই সময়ে এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কড়া মন্তব্য , “আপনারা তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে লড়াই করেই জয়ী হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে আপনারা নিজেরাই অভিযোগ তুলছেন? ৪ মে তারিখের আগে কেন এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি?”
এছাড়াও পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন ওঠে, বিচারপতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, “এত দ্রুততা দেখানোর কারণ কী? যদি কোনো সাধারণ একজন মানুষ কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে আসতেন, তবে পুলিশ কি এতটা সক্রিয়ভাবে কাজ করত? এমন কী ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন, যা আপনাদের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট করল যে বিষয়টি অবিলম্বে ফ্রিজ করে দেওয়া প্রয়োজন? যদি এই পদক্ষেপের ফলাফল উল্টো বা নেতিবাচক হতো, তবে তার দায়ভার কে নিত?”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *