পানিহাটী থেকে দমদম উত্তর, TMC’র থেকে ভালো ফল CPIM’র !
২০২১ এর ভোটে পানিহাটী কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কংগ্রেসের তাপস মজুমদার। জোট প্রার্থী সেবার ভোট পেয়েছিলেন ১২.১৪ শতাংশ। এবার সেই আসনে সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত পেয়েছেন ১৩.৭৩ শতাংশ ভোট।সুতরাং জোট প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে সামান্য হলেও বেড়েছে বামেদের ভোট।
আদৃতা মজুমদার: বামেদের (CPIM) শূন্যের গেরো কেটেছে। একা কুম্ভ রক্ষা করছেন ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। আর তাঁর মাধ্যমেই বিধানসভায় আমজনতার হয়ে লড়াই জারি রাখবেন তারা – এমনটাই দাবি বাম নেতৃত্ব থেকে প্রার্থীদের। তবে শুধুমাত্র ডোমকল নয়,পানিহাটী (Panihati), উত্তরপাড়া, দমদম উত্তর (Dumdum Uttar), দমদমের মতো একাধিক বিধানসভা আসনে তৃণমূলের থেকে ভালো ফল করেছে সিপিআইএম। না, কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, সংশ্লিষ্ট আসনগুলির ভোট-পরিসংখ্যানই দিচ্ছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
উত্তরপাড়া:
প্রথমেই যদি উত্তরপাড়ার দিকে নজর রাখা যায় তাহলে দেখা যাবে সেখানে ২০২৬ এর নির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৯,৮২০ টি ভোট। শতাংশের নিরিখে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২৪.২৫ এ। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে চলতি বছরের নির্বাচনে গঙ্গা পাড়ের এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে বামেদের ভোট বেড়েছে ২.৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে এই কেন্দ্র থেকে এবার নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেয় ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হলেও জয়ের মুখ দেখেনি তৃণমূল। বরং ১২ শতাংশেরও বেশি ভোট কমেছে তাদের।
দমদম:
এবার দমদম বিধানসভা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বাম প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাসের প্রাপ্ত ভোট ২০,৫৭৬। ২০২১ এর থেকে এই আসনে বামেদের ভোট কমেছে ৬.১৫ শতাংশ। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আরও চাঞ্চল্যকর। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা দমদমের তিনবারের বিধায়ক ব্রাত্য বসুর হাত ধরে এবার আর এই কেন্দ্রে ভোট বৈতরণী পার করতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। বরং আগের বারের নির্বাচনের থেকে এবার সেখানে ভোট কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি।
কামারহাটী:
কামারহাটী (kamarhati) বিধানসভার ফল আরও চমকপ্রদ। প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির মাঝে এই কেন্দ্রে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তৃণমূলের মদন মিত্র। জিতেছেন তিনি। তবে আগের বছরের থেকে কম ভোটে। আর তাঁর সেই ভোট অঙ্ক কমার সংখ্যা বামেদের থেকেও বেশি। এই কেন্দ্রে বামেদের ভোট কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। কিন্তু তৃণমূলের সেখানে ৭ শতাংশের বেশি ভোট কমেছে।
খড়দহ:
খড়দহে (khardaha) ঘাসফুল শিবিরের ফলাফল একেবারেই আশানুরুপ নয়। ২০২১ এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিয়ে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিপুল ভোটে জিতেছিলেন। তবে এবার এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী করে সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতকে। ৪ঠা মে ফল বেরোনোর পর দেখা গেল ৩৬.৩১ শতাংশ কমে গিয়েছে তাদের ভোট।বরং বামেদের ভোট প্রায় একই আছে।
দমদম উত্তর:
উত্তর দমদম এবারের ভোটে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল। দাপুটে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও লড়াকু বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধরের (Dipsita Dhar) মধ্যে যখন জোর টক্করের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তখন সেই কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় তুললেন বিজেপির সৌরভ শিকদার। তবে এই কেন্দ্রে সিপিআইএমের ভোট কমে ৪ শতাংশের কিছু বেশি। তবে ২০২১ এর নির্বাচনের থেকে তৃণমূলের ভোট ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।সুতরাং মন্ত্রীর কেন্দ্রেও ধরাশায়ী তৃণমূল।
যাদবপুর:
অন্যদিকে যাদবপুর (Jadavpur) কেন্দ্রের ইতিহাসও তৃণমূল ও বাম ঐতিহ্যের সাক্ষী।২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোট জয়ী হন সিপিআইএমের সুজন চক্রবর্তী। তবে ২০২১’র নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ঘটে পালাবদল। লাল ঝড় থামিয়ে ওঠে সবুজ ঝড়। তবে এবার সেখানে ফুটেছে পদ্মফুল। তবে ভোট অঙ্কের হিসেবে যাদবপুরে তৃণমূলের ভোট কমেছে ১১ শতাংশের কিছু বেশি। আর বামেদের ভোট কমেছে ৯ শতাংশের কিছু বেশি। কাজেই এখানেও ভোট কমার নিরিখে এগিয়ে তৃণমূল।
পানিহাটী:
সবশেষে অবশ্যই নজর দেব পানিহাটীর দিকে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল এই আসনটি। ২০২১ এর ভোটে এই কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কংগ্রেসের তাপস মজুমদার। জোট প্রার্থী সেবার ভোট পেয়েছিলেন ১২.১৪ শতাংশ। এবার সেই আসনে সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত পেয়েছেন ১৩.৭৩ শতাংশ ভোট।সুতরাং জোট প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে সামান্য হলেও বেড়েছে বামেদের ভোট। ২৯৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০ টি আসনে জিতেছে ঘাসফুল শিবির। আর বাকি কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ২০২১’র নির্বাচনের থেকে চলতি বছরের নির্বাচনে তাদের ভোট কমেছে। পরিসংখ্যান অন্তত সেকথাই বলছে। তবে বামেদের ক্ষেত্রে সেই পতন খানিকটা হলেও কম।ভোটের ফলাফল নানান দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়। একটিতে এক রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে থাকে অপর একটি রাজনৈতিক দল। অন্যক্ষেত্রে এক রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয় সেই রাজনৈতিক দলই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে কতটা ভোট কমলো বা বাড়লো সেই রাজনৈতিক দলের- সেটির পরিসংখ্যানই বিচার্য হয়। আর পানিহাটী থেকে দমদম উত্তর- সর্বত্রই এই দ্বিতীয় হিসেবের নিরিখেই পিছিয়ে তৃণমূল। ভোট কমেছে তাদের। আগামীতে তারা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ? অন্যদিকে বিধানসভায় লড়াই জোরদার করতে কি অঙ্ক কষা হচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ? উত্তর মিলবে সময়ের গর্ভে।



