পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুসলিম ভোট ব্যাংক কোন অখণ্ড পাথর নয়
মালদহের তিনটি আসন কংগ্রেস পেতে পারে, কালিয়াচক ও ইংরেজবাজার তৃণমূল পেতে পারে। বাকীগুলি বিজেপিতে যেতে পারে।দক্ষিন ২৪ পরগণার ভাঙড় আইএসএফ-এর হাতছাড়া হবে।এই জেলায় মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলে যাবে।
নিজস্ব সংবাদদাতা: গভীর বিশ্লেষণ এবং তথ্যনির্ভর হয়ে দেখলে বোঝা যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক কোনো ‘মনোলিথ’ বা অখণ্ড পাথর নয়, বরং এটি অত্যন্ত Strategic বা কৌশলী।
১. আবেগ বনাম পাটিগণিত (Emotion vs. Arithmetic)
এটা ঠিকই যে ব্রিগেডে বা জনসভায় ভিড় হওয়া মানেই সেটা ব্যালট বক্সে ট্রান্সফার হওয়া নয়। বাংলায় একটি কথা খুব প্রচলিত—”ভোট নষ্ট করব না।” সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশই মনে করেন, এমন কাউকে ভোট দিয়ে লাভ নেই যে শেষ পর্যন্ত জিতবে না বা বিজেপিকে আটকাতে পারবে না।
তৃণমূলের প্লাস পয়েন্ট: তারা নিজেদের ‘একমাত্র রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরতে সফল হয়েছে।
হুমায়ুন কবির ও মিমের চ্যালেঞ্জ: তাদের ভোট দেওয়া মানে পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া—এই ‘ন্যারেটিভ’ যদি তৃণমূল (TMC) সফলভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে, তবে জোটের প্রভাব ৫% এর নিচেও নেমে যেতে পারে।
২. মুর্শিদাবাদ ও মালদা আসল যুদ্ধক্ষেত্র:
এই দুটি জেলায় সমীকরণটা একটু আলাদা। এখানে কংগ্রেসের একটি ট্র্যাডিশনাল ভোটব্যাঙ্ক আছে।
যদি ১)Humayun Kabir + AIMIM ২)ISF-Left
৩) কংগ্রেস
একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করতে পারে, তবে মুসলিম ভোটটা তৃণমূল সহ চতুর্মুখী ভাগ হয়ে যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে তৃণমূলের বড় ক্ষতি হতে পারে, কারণ এই অঞ্চলে মুসলিম ভোট ভাগ হওয়া মানেই মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো জায়গায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।এটা ঠিক মুসলিম ভোট ভাগের জন্য হুমায়ুন কবীর ও মিম-কে বিজেপি (BJP) ফান্ডিং করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
৩. ISF এবং ‘ভাইজান’ ফ্যাক্টর:
নওশাদ সিদ্দিকীর জনপ্রিয়তা ভাঙড় বা দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু পকেটে প্রশ্নাতীত। কিন্তু ২০২১-এ দেখা গেছে, আব্বাস সিদ্দিকীর সভায় যে ভিড় হয়েছিল, ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
বাস্তব কথা হলো: ভোটাররা যখন ইভিএমের সামনে দাঁড়ান, তখন তারা ‘লোকাল লিডার’ এর চেয়ে ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী’ কে হবেন, সেটাকে বেশি গুরুত্ব দেন।তবে মিম-হুমায়ুন তৃণমূলকে মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে সামান্য হলেও ভোগাবে।
সুজাপুরের SIR বিরোধী ঘেরাও বিক্ষোভে সহিংসা না হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল সরকারের আন্দোলন দমনে অতি সক্রিয়তার মূল্য তৃণমূলকে আসন্ন নির্বাচনে দিতে হবে।হিন্দু মৌলবাদের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম মৌলবাদের প্রাবল্য মুর্শিদাবাদে পড়েছে।
এর ফলে লাভবান মিম-হুমায়ুন কবীর কিছুটা পাবে। কংগ্রেস পেতে পারে মূলতঃ সমাজ সচেতন মুসলিম ভোট।একমাত্র করীমপুর আসনটি(নদীয়ায় কিছুটা, মুর্শিদাবাদে আংশিক)ও ডোমকল বামজোট পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে বহরমপুর,কান্দি,সাগরদীঘী। হুমায়ুন-মীমের দখলে যেতে পারে বেলডাঙ্গা আসনটি।হরিহরপাড়া আসনটি নিশ্চিতভাবে বিজেপি পেতে পারে,এছাড়া বিজেপির ভাগে মূর্শিদাবাদে কিছু জুটবে না।মালদহের তিনটি আসন কংগ্রেস পেতে পারে, কালিয়াচক ও ইংরেজবাজার তৃণমূল পেতে পারে। বাকীগুলি বিজেপিতে যেতে পারে।দক্ষিন ২৪ পরগণার ভাঙড় আইএসএফ-এর হাতছাড়া হবে।এই জেলায় মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলে যাবে।নদীয়া বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। তবে SIR এর আতঙ্কে নমঃশূদ্ররা কাঁটা হয়ে আছেন।তবে বিজেপির আশ্বাসে এখনো ভর করে আছেন। SIR এর ফলে উঃ কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপে আরো ২-১ টি আসনে বিজেপি লাভবান হবে নিশ্চিত। তবে শান্তিপুর, কল্যানী বিজেপির হাতছাড়া হতে পারে।বাকীগুলির সম্ভাবনা ৫০-৫০। তবে হাঁসখালি বামেদের অনূকুলে যেতে পারে।আশ্চর্যের বিষয় নদীয়া জেলায় জনসংখ্যায় উদ্বাস্তু ৫৯% এবং বাম মনস্ক হওয়া সত্ত্বেও বাম নেতাদের হটকারী সিদ্ধান্তে সমর্থকরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছে ফেরত আসবে সন্দেহ আছে।
আসনভিত্তিক (seat-wise) বিশ্লেষণ যেখানে
হুমায়ুন কবির + MIM + ISF-বাম বাস্তবে মুসলিম ভোটে “spoiler” বা প্রভাব
১. মুর্শিদাবাদ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জোন)
হুমায়ুন কবিরের নেটওয়ার্ক+MIM-এর কাজ।
সম্ভাব্য প্রভাবিত আসন:
রেজিনগর(তৃণ)
বেলডাঙ্গা(হুমায়ুন)
হরিহরপাড়া(বিজেপি
নয়দা(কং)
ডোমকল(বাম)
মুসলিম ভোট 60–75%+
TMC-এর বিরুদ্ধে স্হানীয়স্তরে অসন্তোষ আছে
MIM ১০% ভোট কাটতে পারে
Result impact:
২–৪টি আসনে সরাসরি ফলাফল বদলানোর ক্ষমতা
২. মালদা (Close contest zone)
এখানে কংগ্রেস ঐতিহ্য + নতুন ফ্যাক্টর MIM
সম্ভাব্য আসন:
সুজাপুর(কং)
বৈষ্ণবনগর(বিজেপি
মালদা (কং)
চাঁচল(বিজেপি)
হরিশ্চন্দ্রপুর(বিজেপি)
বিশ্লেষণ:
মুসলিম ভোট 50–65%
এখানে ভোট আগে থেকেই ভাগ হয় (TMC vs Congress)
MIM ঢুকলে:
৫–১৫% ভোট কাটতে পারে
triangular contest হবে।
২–৩টি আসনে “spoiler effect” খুব strong
৩. উত্তর দিনাজপুর
সম্ভাব্য আসন:
গোয়ালপোখর
চোপড়া
ইসলামপুর
করণদীঘী
বিশ্লেষণ:
মুসলিম ভোট 45–60%
BJP এখানে তুলনামূলক শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং যে কেউ জিততে পারে।
MIM ও ISF-বাম
৫–১০% ভোট কাটতে পারে
Result impact:
১–২টি আসনে বিজেপি লাভবান হতে পারে বিশেষতঃ রামপুরহাটে।
৪. বীরভূম (Selective impact)
সম্ভাব্য আসন:
মুরারই
নলহাটি
রামপুরহাট
বিশ্লেষণ:
মুসলিম ভোট 35–50%
TMC সংগঠন এখনও শক্তিশালী।এখানে বিজেপির কপালে দুঃখ আছে, কিন্তু মার্জিন (margin) কমাতে পারে
৫. দক্ষিণ ২৪ পরগণা (ISF stronghold)
ISF-বাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ
সম্ভাব্য আসন:
ভাঙ্গড়(তৃণ)
ক্যানিং পূর্ব
ক্যানিং পশ্চিম
বাসন্তী
গোসাবা
বিশ্লেষণ:
বাম-ISFএর প্রভাব বেড়েছে তবে লাভের
খাতা শূণ্য।ভোট কাটতে পারে:
৫–১২%
১–২টি আসনে সরাসরি ফল ঘুরতে পারে
৬. কলকাতা + পার্শ্ববর্তী এলাকা
সম্ভাব্য আসন:
মেটিয়াবুরুজ
গার্ডেনরিচ
মহেশতলা
বিশ্লেষণ:
মুসলিম ভোট থাকলেও highly strategic
এখানে ভোট “consolidated” থাকে ISF প্রভাব শূন্য, তুলনায় বাম প্রভাব বেশি বালিগঞ্জ,সোনারপুর , মেটিয়াবুরুজ
খুব কম প্রভাব (২–৫%)।
সম্ভাব্য প্রভাবিত আসন
ফলাফল বদলানোর সম্ভাবনা
অঞ্চল
মুর্শিদাবাদ
6
2–4
মালদা
5
2–3
উত্তর দিনাজপুর
4
1–2
বীরভূম
3
0–1
দক্ষিণ ২৪ পরগণা
5
1–2
কলকাতা এলাকা
3-0
25–30 আসনে প্রভাব
6–10 আসনে ফলাফল বদলাতে পারে।
Ground RealityMIM + হুমায়ুন কবির +
ISF-বাম
kingmaker না, কিন্তু king-breaker হতে পারে।
জিতবে কম কিন্তু তৃণকে হারাতে পারবে।



