ভোটের আগেই ভয়ের পরিবেশ জগদ্দলে, ফিরলো রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ছবি, ধৃত TMC কাউন্সিলর সহ ৪
পদ্ম শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রার্থী জগদ্দল থানায় উপস্থিত হলে সেই সময় প্রায় ২০০ জন তৃণমূল সমর্থকরাও হাজির হয় সেখানে। পরবর্তীতে পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থীও। ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি।দুপক্ষের মধ্যে চলে তুমুল অশান্তি। থানার সামনেই ঘটে বোমাবাজির ঘটনা।বন্দুক উঁচিয়ে চলে শাসানোর পর্বও। আর এই গন্ডগোলের মাঝে পড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
৭এ নিউজ ডেস্ক: দোরগোড়ায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Election 2026) । শেষবেলার প্রচারে খামতি রাখছেন না কোনো প্রার্থীই। আজ জগদ্দলে জনসভা রয়েছে প্রধামন্ত্রীর (Narendra Modi)। তবে তার আগেই উত্তপ্ত জগদ্দল। তৃণমূল-বিজেপি (TMC Vs BJP) সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত রবিবার রাতে জগদ্দলের আটচলা বাগানে পৌঁছয় র্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, সেখানে দুপক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টি। আহত হন দুদলেরই একাধিক কর্মীরা।আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এদিন রাত ১১ টা নাগাদ নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে (Arjun Singh) সঙ্গে নিয়ে জগদ্দল থানায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে যান জগদ্দলের (Jagaddal) পদ্ম প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার। সেই সময় থানার সামনেও একপ্রস্থ সংঘর্ষ বাধে যুযুধান দুই দল – তৃনমূল ও বিজেপির মধ্যে। পদ্ম শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রার্থী থানায় উপস্থিত হলে সেই সময় প্রায় ২০০ জন তৃণমূল সমর্থকরাও হাজির হয় সেখানে। পরবর্তীতে পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থীও। ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি।দুপক্ষের মধ্যে চলে তুমুল অশান্তি। থানার সামনেই ঘটে বোমাবাজির ঘটনা।বন্দুক উঁচিয়ে চলে শাসানোর পর্বও। আর এই গন্ডগোলের মাঝে পড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের আহত হওয়ার খবর মিলেছে।অন্যদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তের দাবি, তাদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন অর্জুন সিংয়ের অনুগামীরা। শেষমেশ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর এদিনের অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম- কৌশিক দাস, সিকন্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত এবং শ্যামদেব সাউ। এদের মধ্যে গোপাল রাউত জগদ্দল পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর। এখনো অনেক অভিযুক্তরই সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে খবর সূত্রের। আর পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বার করে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে এদিনের গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। সবমিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো জগদ্দলে। ভোট এলেই ভাটপাড়া,জগদ্দলে ফিরলো আবার চেনা সন্ত্রাসের ছবি। ভোটের দিন এই স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি কেমন থাকে সেটাই এখন দেখার।


